ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? ইন্টারনেট এর একটি সহজ ব্যাখ্যা।

0
5

ধিকাংশ মানুষই জানে কিভাবে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে হয় এবং কিভাবে তা ব্যাবহার করতে হয়, তা তাদের ফোনে হোক বা তাদের কাজের ডিভাইস গুলোতে।  অথবা দেখবেন ইটালির কোন ক্যাফেতেই বসে আছেন সেখান থেকেও সংযোগ দিতে পারবে, কিন্তু ইন্টারনেট মূলত কিভাবে কাজ করে ?

মনে করুন, আপনি ইটালিতে ছুটি কাটাতে গিয়েছেন এবং সুন্দর একটা ক্যাফেতে বসে আছেন যেখানে ফ্রি ওয়াইফাই পাচ্ছেন । আপনার যাত্রার মাত্র কয়েকদিন হয়েছে এবং আপনি কিছু সুন্দর সুন্দর ছবি তুলেছেন যা আপনি আপনার বাবা মাকে দেখাতে চান।

কিন্তু আপনার মা বাবা ড্রপবক্স বা গুগল ড্রাইভ এর সাথে তেমন পরিচিত না, তাই এর পরিবর্তে আপনি ছবিগুলো ইমেইল এ পাঠিয়ে দিলেন। আপনার মাউসের কার্সর সেন্ড বাটনের উপরে গেল, তারপর… ক্লিক … সাথে সাথে ছবিগুলো পৃথিবীর অপর প্রান্তে আপনার মা বাবার কাছে চলে গেল।

কি ঘটল?

এর উত্তর পাওয়ার আগে চলুন নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারনা নিয়ে নিই। পৃথিবীর অপর প্রান্তে কিভাবে আপনার মায়ের নিকট ইমেইল টা গেল তা জানার পূর্বে আমাদের জানতে হবে যে নেটওয়ার্ক কি নিয়ে গঠিত। নেটওয়ার্ক একটি একত্রিত ডিভাইসের দল। যে ডিভাইসগুলো নেটওয়ার্ক এর সাথে সংযুক্ত আছে বা থাকে তাদেরকে নোড বলা হয়। বেশিরভাগ মডার্ন নেটওয়ার্কেরই নিম্নোক্ত নোড গুলি আছেঃ

১। নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড বা নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার।

২। সুইচ।

৩। রাউটার।

৪। ওয়্যারলেস অ্যাকসেস পয়েন্ট।

নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড

একে নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার নামেও ডাকা হয়। এটি এমন একটি হার্ডওয়্যার যা আপনার ডিভাইস যেমন কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্সটল করা থাকে। যদিও তারা নিজেরা নোড না তবে তারা কম্পিউটার বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত থেকে তাদেরকে (ডিভাইসগুলোকে) নোড হিসেবে নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত থাকতে দেয়।

সুইচ

সুইচ হলো কেন্দ্রীয় নোড যা একই কানেকশনের মধ্যে বারবার ও দ্রুততারসাথে কানেকশন পয়েন্ট তৈরী ও ডিলিট করে কোন মেসেজ বা বার্তা প্রেরন করে। আপনি তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালক হিসেবেও ধরতে পারেন, যা একটি নেটওয়ার্কের কিছু ডিভেইসের মধ্যে তথ্য আদান প্রদানের প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে, সেই নেটওয়ার্ক তারবিহীন বা তারযুক্ত যাই হোক না কেন।

রাউটার

রাউটার এমন একটি যন্ত্র যা একাধিক আলাদা নেটওয়ার্ক কে সংযুক্ত করে। রাউটার অন্য রাউটারের আলাদা নেটওয়ার্কে তথ্য ততক্ষন দিতে থাকে যতক্ষন না সেই তথ্য পুরোপুরিভাবে এর গন্তব্যে পৌছায়।

ওয়্যারলেস অ্যাকসেস পয়েন্ট

ওয়ারলেস অ্যাক্সেস পয়েন্ট কাছাকাছি কিছু কম্পিউটার বা নোডকে তারবিহীন মাধ্যমে সংযুক্ত হতে দেয়। এটি সাধারানত ওয়াইফাই এর মাধ্যমে করা হয়। এগুলো হলো নোড যা তারযুক্ত নেটওয়ার্ক কে তারবিহীন হওয়ার ক্ষমতা দেয়।­

একাধিক ওয়্যারলেস অ্যাকসেস পয়েন্ট যোগ করে একটা তারবিহীন নেটওয়ার্ক কে বর্ধিত করা যায়, যেমন একটা বড় বিল্ডিংয়ের মধ্যে সকল নেটওয়ার্ক কে জুড়ে দেওয়া যায়। একাধিক ওয়্যারলেস অ্যাকসেস পয়েন্ট যোগ করে একটা তারবিহীন নেটওয়ার্ক কে বর্ধিত করা যায়, যেমন একটা বড় বিল্ডিংয়ের মধ্যে সকল নেটওয়ার্ক কে জুড়ে দেওয়া যায়। যাইহোক, ওয়্যারলেস অ্যাকসেস পয়েন্ট নেটওয়ার্ক এর আবশ্যক উপাদান না কারণ একটা নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ তারযুক্ত হতে পারে।

চলুন এখন আমরা আসল কথায় আসি

ইন্টারনেটের জন্ম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ১৯৬০ সালের শেষের দিকে এবং ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে একটি নতুন নেটওয়ার্ক উদ্ভাবন করে, এটিই ছিল ইন্টারনেট। এটি অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি নেটওয়ার্ক (ARPANET) নামে পরিচিত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কাজরত বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও গবেষকগণকে একে অপরের সাথে সংযোগ করানো এর উদ্দেশ্য ছিল। গবেষকগণ ARPANET কে বিশ্ববিদ্যালয় সহ সেই সেই স্থানে নিয়ে গেলেন যেখানে তারা কাজ করতেন। এরপর আরো বেশি বেশি নেটওয়ার্ক এর সাথে সংযুক্ত হতে থেকে এবং ধীরে ধীরে ইন্টারনেট আকার ধারণ করতে থাকে।

তাহলে, ইন্টারনেট কি?

ইন্টারনেট বিশ্বব্যাপী একগুচ্ছ নেটওয়ার্ক যা ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যাবহার করে কাজ করে। আপনি ইন্টারনেট কে একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে ধরতে পারেন যেখানে সকল নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটের নোড। যাইহোক নতুন ডিভাইস এবং প্রযুক্তি ইন্টারনেটে নেটওয়ার্ক কে সংযুক্ত করার নতুন উপায় বের করেছে। এর একটা সংযোগ মাঝে মাঝেই এই কানেকশন গুলো তৈরী করতে ব্যাবহার করা হয়।

তারযুক্ত ইন্টারনেট

এটি ইন্টারনেটের সবচেয়ে সাধারণ রুপ। হাজার হাজার মাইল তার পুরো পৃথিবীর মধ্যে রয়েছে।

যেকোনো তথ্য অপটিকাল ফাইবারের মতো আদর্শ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলোর চেয়ে ৭০% দ্রুত গতিতে যেতে পারে, যা তথ্য স্থানান্তরকে অসম্ভব দ্রুত করে তোলে­। এই তারগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য মাটি বা পানির নিচে রাখা হয়। যখন তারা মাটির নিচে থাকে তখন তাদেরকে মাটির নিচে থাকা ইউটিলিটি লাইনের সাথে পাশাপাশি রাখা হয় যেগুলো রাস্তার পাশাপাশি অনেক দূর পর্যন্ত যায়। একক তার আটলান্টিক মহাসাগরের পানির নিচের যেসব তার যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে রেখেছে তাদের মতো হাজার হাজার মাইল ছড়িয়ে থাকতে পারে। এইটা ইন্টারনেট সংযোগের আদর্শ এবং দ্রুততম পথ।

. স্যাটেলাইট ইন্টারনেট

যাদের বাড়ির ছাদের উপরে স্যাটেলাইট ডিশ আছে তারা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ নিচ্ছে। এইটা সাধারণত আধুনিক যোগাযোগ থেকে বিছিন্ন দেশসমূহ এবং কম জনসংখ্যা সমৃদ্ধ এলাকায় ব্যাবহার করা হয়।

যদিও স্যাটেলাইট দ্রুতগতির, তবুও স্যাটেলাইট থেকে একটি ডিভাইসের মধ্যকার দূরত্ব এই কানেকশনকে ধীরগতির করে তোলে। তবুও যদি আপনি কোন জায়গায় কোন তথ্য পাঠাতে চান এবং একটি স্যাটেলাইট আপনার এবং সেই জায়গার মধ্যে নেই, তাহলে এটি এক স্যাটেলাইট থেকে অন্য স্যাটেলাইটে যায় এবং অবশেষে তা তার গন্তব্যে পৌছায়।

  1. সেলুলার ইন্টারনেট

 

সাম্প্রতিককালে সকল ধরনের মোবাইল ফোন ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়েছে। এইগুলো প্রথমে মোবাইল টাওয়ার তারপর ইন্টারনেটের তার এবং সেখান থেকে বাকি সকল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট গঠন করে। এক কথায়, সেল টাওয়ার গুলো একটি বৃহৎ ওয়্যারলেস অ্যাকসেস পয়েন্টের মতো কিন্তু তারা শুধু মোবাইল ফোন বা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যাবহারের জন্য। মোবাইল ফোন হটস্পট ব্যবহার করে ওয়্যারলেস রাউটার এর মতো থাকতে পারে যার মাধ্যমে একটা মোবাইল বা ল্যাপটপ তাদের ওয়াইফাই ব্যবহার করে সংযোগ নিয়ে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে।

তাহলে এখন সেই পূর্বের ইমেইল সম্পর্কে জানা যাক………

 
ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে?

যখন আপনি আপনার ল্যাপটপ বন্ধ করে ইটালির পথে যাত্রা শুরু করেন, আপনার পাঠানো ইমেইল নিজের একটি যাত্রায় রয়েছে এবং এই যাত্রা একটা দ্রুতগতির যাত্রা। যখন আপনি সেন্ড বাটনে ক্লিক করেন, আপনার ল্যাপটপের নেটওয়ার্ক এই তথ্যটি ইমেইলে নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড ওয়াইফাই ব্যবহার করে ওয়ারলেস অ্যাকসেস পয়েন্টে পাঠায়। তারপর ওয়ারলেস অ্যাকসেস পয়েন্ট এই তথ্যটি কোন স্থানীয় রাউটারের তার ব্যাবহার করে প্রেরণ করে।

 

আরো পড়ুন “ আপনি যেখানে বাস করেন সেখান থেকে কিভাবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন দেখতে চান ?”

 

যে স্থানীয় রাউটারটি এই তথ্যটি গ্রহন করেছিল তা এই তথ্যটি অন্য রাউটারে পাঠায়, সেই রাউটার অন্য রাউটারে, সেই রাউটার আবার অন্য রাউটারে এইভাবে একের পর এর রাউটার অন্য রাউটারে তথ্য পাঠায় এবং রাউটারের একটা চেইন তৈরী করে তথ্য প্রেরণ করতে থাকে যতক্ষন না তা সমূদ্রের তলদেশে থাকা ট্রান্সলেন্টিক তারের মাধ্যমে আপনার বাবা মায়ের কাছে পৌছে যায়।

আরো পড়ুন –  মাত্র ১০ এমবি দিয়ে Asphalt 9: Legends ডাউনলোড করুন – With Proof

সেখানে এটি গুগল ডেটা সেন্টারে পৌছে যায় (কারণ আপনার বাবা মা জিমেইল ব্যবহার করে) এবং গুগুল আপনার বাবা মায়ের কাছে একটা নোটিফিকেশন পাঠায় যে তাদের কাছে একটা ইমেইল পাঠানো হয়েছে। আপনার মা এই নোটিফিকেশন পায়, তার অ্যাকাউন্ট এ যায়, ইমেইল এর উপরে ক্লিক করে। তখন এই তথ্যটি গুগল থেকে বিভিন্ন তারের মাধ্যমে আপনার বাড়ির রাউটারে গিয়ে পৌছায় এবং সেখান থেকে আপনার মায়ের কম্পিউটারের বা ল্যাপটপের সাথে সংযোগ দিয়ে রাখা ইথারনেট তারে নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডের মাধ্যমে পৌছায়। তারপর এইটা আপনার মায়ের ল্যাপটপের স্ক্রিনে দেখানো হয়।

 

এই সবকিছু চোখের এক পলকে হয়। অসাধারণ………… তাই না? 

ছবি পিক্সাবাই.কম

লিখেছেন , যুবায়ের হোসেন

Facebook Comments
1Shares

LEAVE A REPLY