তাজ মহলের গল্প। Bangla Golpo
তাজ মহলের গল্প। Bangla Golpo

তাজ মহলের গল্প। Bangla Golpo

“তাজমহল’’এমন একটা শব্দ যা পড়া বা শোনার পরেই মনে পরে যায় শ্বেতমর্ময় পাথরের একটা বিশাল সমাধি। আর ভাবনার সুতায় গাথা পরে, মরনশীল মানুষের ভালবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রকান্ড এক স্থাপত্য শিল্প। (Taj Mahal bangla golpo)

মনের ক্যানভাসে ভেসে উঠে মহাশক্তিধর সম্রাটের প্রিয়জন হারানোর বেদানাকে, ইট পাথরের শব্দ দারা গেধে তোলা এক বিরহের কবিতা। এজন্যই কবি গুরু বলেছেন

শুভ্র তাজমহল যেন ‘কালের কপোলতলে’ সমুজ্জ্বল হয়ে থাকা বিরহকাতর সম্রাটের একবিন্দু নয়নের জল।

শুভ্র তাজমহল যেন ‘কালের কপোলতলে’ সমুজ্জ্বল হয়ে থাকা বিরহকাতর সম্রাটের একবিন্দু নয়নের জল। ছবিঃshutterstock.com

 

সূচনা কালের কথা

যমুনার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাজমহল যার চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা গত চার শতাব্দী ধরে তরুন তরুনির ভালোবাসার উদাহারন হিসাবে ব্যবহার করে থাকে যে তাজমহল , সেই মহল প্রতিষ্ঠাতা শাজাহানের উঠে আসা কিন্তু একেবারেই রোমান্টিক ছিলো না।

সম্রাট  শাজাহানের জন্ম হয় ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দের ৫ জানুয়ারী। কিন্তু তার আসল নাম শাহাব-উদ্দিন মুহাম্মদ খুররম। ছোট বেলায় তাকে খুররম নামেই ডাকা হত। রাজ জ্যোতিষীদের গণনায় নাকি এটা এসেছিলো যে খুররম এর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতে চলছে। তার মাতামহ সম্রাজ্ঞী রুকেয়া সুলতানা বেগম তাকে অনেক ভালোবাসতেন এজন্যই তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে বলে ধরা হয়।

শাহাজাদা খুররাম এক বিরল সম্মাননা পেলেন ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই হিজরির জন্মদিনে। সম্রাট জাহাঙ্গীর খুররমকে তার শরিরের সমপরিমান ওজনের স্বর্ণ আর রত্ন উপহার দিয়েছিলেন। আর এমন ঘটনায় অন্য শাহাজাদাদের চোখে ব্যাপারটা ঈর্ষনীয় ভাবেই নিবে, এটাই সাভাবিক ছিল।

এর পরপরিই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটলো শাহাজাদা খুররমের জীবনে। রাজ সিংহাসনের শক্তিশালী দাবিদার শাহাজাদা খুররমের সাথে তার সৎ মা মেহেরুন্নেসার কন্যা আরজুমান্দ বানুর সাথে বিয়ে হয়।

এই আরজুমান্দ বানু বেগমই পরে সম্রাট শাজজানের প্রিয় মমতাজ মহল  হিসাবে ভুবনখ্যাত হয়েছিল। আর ফুপু মেহেরুন্নিসা বিখ্যাত ছিলেন নুরজাহান নামে।

মুমতাজ মহলের এই অসাধারন ব্যক্তিত্ব হয়ত উত্তরাধিকার সূ্ত্রে পেয়েছে। সম্রাট শাহজাহানের উপর সে যতটা ক্ষমতার প্রভাব ছিল, তার ফুপু নুরজাহানেরও সম্রাট জাহাঙ্গীরের উপর প্রভাব এর চেয়ে আরো বেশি ছিল।

মুমতাজ মহলের জন্ম ১৫৯২ সালের ২৭ এপ্রিল ভারতের আগ্রায়। কথিত আছে প্রথম এক বার দেখেই মুমতাজ মহলের আর্কষণে পাগল হয়ে যায় কৈশর শাহজাহান। এই ভালোলাগাই আস্তে আস্তে পরিনত হয় জগত খ্যাতির ভালোবাসার মহাকাব্য।

বাগদানের ৫ বছর পরে ১৬১২ সালের এপ্রিলের ৩০ তারিখে বিবাহ সম্পন্ন হয় দুইজনের। শাহজাহানের তখন বয়স ২০ বছর আর মুমতাজের ১৯ ।

 

শাহজাহানের উঠে আসা

মুঘলে আজম আকবর, শাহজাহানের জন্মের সময় মুঘল সম্রাট ছিলেন। শাহজাদা খুররমের বাল্যকাল কেটেছিলো পিতামহের সাথেই। খুররম ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ এবং সাহসী সেই ছোট বেলা থেকেই। এক সময় রাজনৈতিক জটিলতা ‍শুরু হয়েছিলো সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়, তখন শাহাজাদা খুব সতর্কভাবে নিজেয়ে সরিয়ে রাখেন। 

এজন্য দরবারের মন্ত্রী সভায় অনেক দ্রুত গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসাবে স্থান করে নেন শাহজাদা খুররম। ১৬১৪ সালে হঠাৎই ধূমকেতুর মত রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে শাহাজাদার। মাত্র এক বছর অভিযান চালিয়ে ২২ বছরের শাহাজাদা খুররম মেবারের রাজপুত্রদের খুব বাজে ভাবে পরাজিত করেন।

দাক্ষিণাত্যে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আশাতীত সাফল্য আসে ১৬২৭ সালে, এই ব্যারপাটা তাকে অনেক খ্যাতি এনে দেয়। তাকে “শাহজাহান’’ অর্থাৎ সারা পৃথিবীর রাজা উপাধিতে দেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। ২৫ বছর বয়সে এত মর্যাদা ও উপাধি অর্জন করা চিন্তা করাও কঠিন। ফলে অল্প সময়েই শাহজাহান পরিণত হলেন দরবারের সকলের চোখে সমীহের পাত্রে।

 ছবির সোর্স angel1900.wordpress.com
ছবির সোর্স angel1900.wordpress.com

 

রাজক্ষমতার বন্টন কোন সময়ই সরল ছিল না। সম্রাট জাহাঙ্গীরের উপর ধিরে ধিরে ক্রমেই প্রভাব ফেলতে থাকে সম্রাজ্ঞী নুরজাহান আর অন্য দিকে শাহজাহানের সৎ মা ও ফুপু শাশুড়ি। তাদের পরিকল্পনা ছিল জাহাঙ্গীরের কনিষ্ঠপুত্র শাহরিয়ারকে পরবর্তীতে সিংহাসনে বসানো। নুরজাহান ‍এই বিষয়টা বাস্তবায়ন করার জন্য বেস অনকেটা রাস্থা এগিয়ে যায়।

শাহজাদা শাহরিয়ারের সাথে তার আগের ঘরে জন্ম নেওয়া মেয়ে লাভলি বেগমকে বিয়ে দিয়েছিলেন। তবে শাহাজাহানের শশুর আসাফ খান ও শাহজাহানের সামনে নুরজাহানের মতো প্রতাশালী সম্রাজ্ঞীও টিকতে পারেনি।

 ১৬২৮ সালে সিংহাসনে বসেন শাহজাহান, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, বিদ্রহ পেরিয়ে। আর ক্ষমতাপাবার পরে লাহোরে নজরবন্দী হিসাবে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হয় একসময়ের সম্রাজ্ঞী নুরজাহান ও তার কন্যা কে।

 

শাহজাহান ও মুমতাজ মহলের ভালোবাসা

আমরা শাহজানকে প্রেমিক সম্রাট হিসাবেই চিনে থাকি । কিন্তু তিনি বিদ্রহ দমন, ক্ষমতা ধরে রাখা, কৌশলী রাজনিতি সব কিছুইতেই সমান দক্ষ ছিলেন। যদিও তার ক্ষমতা সিংহাসচ্যুতির পরেও আমারা তাকে প্রেমিক শাহজাহান নামেই চিনি। তাজমহলের কারনেই মানুষের মাঝে বেছে আছেন শাহজাহান ও মুমতাজ মহলের ভালোবাসা।

ইতিহাসে, কেন প্রেমিক শাহজাহান বিখ্যাত ? এটা কি তার প্রিয়তম স্ত্রীর স্মৃতি কে ধরে রাখার জন্য ব্যয়বহুল এই ভবন বানিয়েছেন ? কিংবা বেচে থাকতে সত্যই তাদের প্রেম ছিল গভির ? এসব জানতে চাইলে আমাদের খুজতে হবে চারশত বছর আগের ইতিহাস । 

ঐ সময়ের রাজপুরুষদের, অনেক নারীদের কাছে যাওয়াটা সর্বজনবিদিত এবং সবাই স্বিকার করে । মুঘলরাও তেমনই  ছিলেন ? দেখা যেত প্রায় সব শাহজাদা ও সম্রাট দের আলাদা আলাদা থাকার স্থান ও সেখানে থাকতো তাদের স্ত্রী ও দাস দাসি । তেমনই ভবিষ্যত সম্রাট শাহাজাদা খুররমের সান্নিধ্য পাবার আশা রাখতেন অনেক স্ত্রী ও দাস দাসি নারী।

কিন্তু এই ব্যাপারে শাহজাহান ছিলেন আলাদা। মুমতাজের প্রতি ছিল ব্যক্তিগত প্রণয় । তখন ভারতীয় রাজপরিবারে দাম্পত্য হতো জৈবিক প্রয়জন, সন্তান জন্মদেয়া, রাজনৈতিক কারন গুলোকে ঘিরে। ব্যক্তিগত ভালবাসার গল্প রাজপরিবারে ছিল বিরল। শাহজাহান ও মুমতাজ মহলের ভালোবাসা সব ছাপিয়ে প্রাধান্য পেল ভালোবাসা ও পারস্পরিক রোমান্টিসিজম ।

মুমতাজ ছাড়াও শাহজাহানের আরো দুজন বেগম ছিলেন। সেই বিয়ে ছিলো রাজনিতিক কারনে। আর মুমতাজ শুধু তার স্ত্রীই ছিলেন না ছিলেন একান্ত কাছের বন্ধু ও পরামর্শদাতা।

মুমতাজ ছিলেন শাহজাহানের আদর্শ স্ত্রী ও সহযোদ্ধা। মুমতাজ অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতেন । আর যুদ্ধ ও অভিযানেও শাহজাহানের সঙ্গী হিসেই পাশে থাকতেন সব সময়। তাদের ভালোবাসায় ১৪ জন সন্তান জন্মনিলেও শৈশব পেরতে পেরেছিলেন ৭ জন । আওরঙ্গজেব এই রাজদম্পতিরই সন্তান । এজন্যই আরজুমান্দ বানু বেগম হয়েছিলেন শাহজাহানের বিষেশ একজন যার প্রকাশ পেল মুমতাজ মহলের মাধ্যমে । আর সত্য বলতে মুমজাত এমন কিছুর যোগ্যই ছিলেন।

পৃথিবীর নিয়ম সবসময় এক রকম থাকে না মানুষকে মরতে হয় ভালবাসা সবসময় একরকম চলতে পারে না। মৃত্যু কাউকে ছাড় দেয়না। শাহজাহান ও মুমতাজের এমন রাজকীয় ভালোবাসা সেই সত্যরে সামনে উপস্থিত হলেন। ১৬২৯ সালে অনেক বেসি বারাবারি শুর করলো দাক্ষিনাত্য বিদ্রোহ।

সেখানে অভিযান পরিচালনা করলেন শাহজাহান সাথে রাখলেন স্ত্রী মুমতাজ কে । ২ বছর ধরে চললো সেই যুদ্ধ । এর মাঝে মুমতাজ অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লেন । অনেক দিনের যাত্রায় ক্লান্তিতেই ছিলেন মুমতাজ । আর সময় ঘনিয়ে আসছে সন্তান জন্মদেবার সময়, আর সন্তন জন্ম দিতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি।

টানা ৩০ ঘন্টা প্রসব বেদনার পর, মুমতাজ অবশেষে কন্যাসন্তান জন্ম দিলেন , কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মারা গেলেন সম্রাজ্ঞী মুমতাজ মহল।

পরাক্রমশালী শাহজাহানের অন্তর কাঁদিয়ে ১৬৩১ সালের ১৭ জুন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সম্রাটের মহলের অমূল্য রত্ন ‘মুমতাজ মহল’। মুমতাজের মৃত্যুতে শাহজাহান এতটাই শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন যেন আচমকা তার রং, রূপ ও সৌন্দর্যের জাঁকজমক মন্ডিত পৃথিবীতে বেদনার জলোচ্ছ্বাস এসে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেল।

এক বছরের শোক ঘোষণা করলেন সম্রাট নিজেকে, চলে গেলেন লোক চক্ষুর অন্তরালে। ঠিক এক বছর পর সম্রাট যখন জনসম্মুখে হাজির হলেন, ততদিনে তার চুল এবং শ্মশ্রুতে পাক ধরে গেছে, চোখে-মুখে বার্ধক্য এবং বিরহের ছাপ ছিল সুস্পষ্ট।

তাজমহল নির্মাণের সূচনা

মানুষ বলে থাকে, মৃত্যু সময় মুমতাজ নাকি শাহজাহানকে বলেছিলেন তাকে যেন এমন স্থানে সমাহিত করা হয় যা দেখে গোটা পৃথিবীর মানুষ অবাক নয়নে দেখে। এমনটা মুমতাজ বলেছে কিনা সত্যই জানা নেই। তবে হঠাৎ এমন মৃত্যুতে সম্রাট যে প্রভাবিত হয়েছেন এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এমন একটি সমাধি তৈরী করার যা মানুষ ইতিহাসে আগে কখনোই হয়নি। দুনিয়ার সকল মহলের মুকুট হবে এই মহল । এমন ভেবেই মহাপরিকল্পনা গ্রহন করেছিলেন শাহজাহান।

তাজ মহল
তাজ মহল । ছবি সোর্স সাটারস্টোক

তাজমহলের স্থাপত্যশৈলীর 

১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তাজমহলের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল । ২০,০০০ শ্রমিকের নিরলস প্রচেষ্টায় ১৬৫৩ সালে অবশেষে নির্মাণ শেষ হয়েছিল, তাজমহলের কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিলো প্রায় ২১ বছর  ।

কিন্তু মূল কাঠামো নির্মাণ করতে ১০ বছর সময় লেগেছিল মাত্র। বাকি ১১ ব্যয় হয়েছিল তাজমহল কমপ্লেক্সের ও মার্বেল পাথরের কাজ এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করতে। মালামাল পরিবহনের জন্য প্রায় ১,০০০ হাতি নিয়োজিত ছিল । প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজস্থানের মাকরান থেকে ও আগ্রা থেকে, সাদা মার্বেল পাথর আনা হয়েছিল  ।

সুদূর শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, তিব্বত, আরব এবং ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা হয়েছিল, বিভিন্ন পাথর যা মোজাইকের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল মহা মূল্যবান এবং অপেক্ষাকৃত কম মূল্যবান ২৯ ধরনের পাথর ।

তাজ মহলের স্থপতি কে ?  অধিকাংশ গবেষকের মতে, তাজমহলের প্রধান স্থপতি ছিলেন পারস্য বংশোদ্ভূত ওস্তাদ আহমদ লাহোরী, যদিও অনেকে ওস্তাদ ঈসা সিরাজিকে তাজমহলের প্রধান স্থপতি হিসেবে দাবি করেছেন।

তবে বিভিন্ন কাগজ পত্র এবং ওস্তাদ আহমদ লাহোরীর উত্তরাধিকারদের লিখিত বিবরণী ওস্তাদ আহমদের দিকে পাল্লা ভারি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে তাজমহলের বিশাল গম্বুজটির স্থপতি ছিলেন অটোম্যান গম্বুজ বিশেষজ্ঞ ইসমাইল ইফেন্দি।

taj mahal
taj mahal Photo: shutterstock

শাহজাহানের পূর্বপুরুষদের সকল চমৎকার চমৎকার সব সমাধির উৎকৃষ্টতম অংশগুলো সমন্বয় করেই গড়ে তোলা হয়েছে এই তাজ মহল । তৈমুর লং এর সমাধি থেকে অনুপ্রেণা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে তাজমহলের বিশাল গম্বুজটি। আর মূল কাঠামো তৈরি হয় প্রপিতামহ সম্রাট হুমায়ুনের সমাধি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে।

আর প্রবেশ দ্বারটির নকশা নেয়া হয়েছে পিতামহ সম্রাট আকবরের সমাধি থেকে এবং মিনারগুলোর অনুপ্রেরনা ছিল পিতা সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমাধির মিনার থেকে ।

তাজ মহলে খুব সুক্ষ ভাবে, আলোর খেলা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রবেশ করার সময় তোরনের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করলে উঠানে, তাজকে বিশাল দেখেতে লাগে। আপনি যা খুশি ভেবে তাজমহল দেখতে যেতে পারেন , তাজমহলের বিশালতায় আপনি ডুবে যাবেনই।

চারটি মিনার বাইরের দিকে হেলানো কিন্তু দেখে মনে হয় না । দেখতে একদম সোজা, হেলানো থাকায় একটা দিক হলো বড় প্রাকৃতিক দূর্ঘটনায় এটা বাইরে পরবে মূল গম্বুজে পড়বে না।

ফলে অক্ষত থাকবে মুমতাজের সমাধি। আবার আপনি যখন বের হয়ে আসবেন তখন যদি তাজের দিকে তাকান মনে হবে এটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। এখানেও ব্যবহার করা হয়েছে আলোর খেলার জাদু (বিশেষ বিজ্ঞান) তাই অনেকে বলেন, চলে যাওয়ার সময় তাজমহলকে আপন অন্তরে ধারণ করে নিয়ে যান দর্শনার্থীরা।

 taj mahal Photo: shutterstock
taj mahal Photo: shutterstock

বাগান ছারা মুঘল স্থাপত্য যেন চিন্তাই করা যায় না। তার জন্য তাজমহলেও সেই ইতিহাস ধরে রাখা হয়েছে । এই বাগানে ডিজাইনে সিম্বলিজন ধরে রাখা হয়েছে । বর্গাকার  ৩০০ X ৩০০ মিটার এই বড় বাগানে চারটি কেনাল চার ভাবে বিভক্ত হয়েছে ।

এটা চারবাগ নামে পরিচিত। এই চারপাত তাজমহলের অবিচ্ছেদ্য পার্ট। এই জলের ধারা এক স্থানে মিলিত হয়েছে যা পবিত্র কোরআনের হাউজে কাউসার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই জলাধারটি নির্মাণ  করা হয়েছে।

taj mahal. Photo: pixabay.com
taj mahal. Photo: pixabay.com

তাজমহল সাবার অন্তরে ছুঁয়ে যায় বেশ কিছু কারনে । এর সৌন্দর্যের রহস্য এবং মানব হৃদয়কে মোহিক করার শক্তি দুইটি । প্রথম কারন অসাধারন সার্বিক ভারসাম্য এবং দ্বিতীয়ত শ্বেতশুভ্র মার্বেল পাথরের মোড়ানো তাজের স্নিগ্ধ আবহ । তাজমহল অতান্ত্য নিখুত । তাজমহলের ডান দিকে আরো দুটি স্থপনা রয়েছে । একটি মসজিদ ও একটি তৈরি ছিলো প্রিতি সাম্য রক্ষার তাগিদে । তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য কাজেও ব্যবহার করা হতো ।

taj mahal
taj mahal. Photo: Pixabay

তাজমহল সময়ের সাথে রঙ বদলায় । পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় কোনো বস্তু থেকে যে বর্ণের আলো প্রতিফলিত হয়, আমরা ঐ বস্তুর রং হিসেবে সেটাই দেখতে পাই। শ্বেত পাথর কোন আলো ধরে না রেখে তার প্রতিফলন ঘটায় , ফলে এর ‍উপর যে আলো আসে তা সাথে সাথে শ্বেত পাথরের কারনে তাজমহলের রঙ পরিবর্তন হতেই থাকে।

সকালের মিষ্টি রোদের খেলায় যে আবহের পরিবেশ তৈরি হয়, গোধূলিলগ্নের দ্যোতনায় সে আনন্দ হারানোর বেদনায় রুপান্তরিত হয়। আর জোছনা রাতে তাজমহলের বেহেস্তের সৌন্দর্যের এরিয়ে চলা মোটেও সম্ভব না।জ্যোৎনা স্নাত রাতে তাজমহলের রুপ বর্ণনা কলম কাগজে সম্ভবনা।

সত্য মিথ্যা

তাজ মহলের নকশাকারকের নাকি হাত কেটে দিয়েছিলেন এমন একটি গল্প প্রচলিত আছে এটা মিথ্যা ।

কথিত আছে তাজমহলের পাশে যমুনা নদীর অপর পার্শে কালো রঙের তাজমহল বানাতে চেয় ছিলেন, এটা আসলে মিথ্যা গুজব।

এটা তৈরী করতে গিয়ে অর্থনিতি ধংস হয়ে গিয়েছিলো । খাদ্য দূর্ভিক্ষ্য শুরু হয়েছিলো এগুলো সত্য ঘটনা। সম্রাটের খামখেয়ালির কারনে জনগনকে খারাপ পরিনিত ভোগ করতে হয়েছিলো ।

 

শাহজাহানের বিলাসী জীবনযাপন এবং তদাপেক্ষা উচ্চাভিলাষী সব মহাপরিকল্পনার ভারে ধুঁকতে থাকা মুঘল সাম্রাজ্যকে আশু পতনের হাত থেকে বাঁচাতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং আগ্রা দুর্গে গৃহবন্দী করেন তারই পুত্র আওরঙ্গজেব।

পিতা এবং ভাইদের প্রতি কঠোরতা এবং পূর্ববর্তী মুঘলদের তুলনায় অধিক অনমনীয় নীতির জন্য আওরঙ্গজেব নিজেও হয়ত সমালোচনা এড়িয়ে যেতে পারবেন না কখনও।

কিন্তু এ ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের দ্বিমত নেই যে, তিনিই শেষ গ্রেট মুঘল। কারণ তার মৃত্যুর পর অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে বালির বাঁধের মতো ভেঙ্গে পড়েছিল মুঘল সাম্রাজ্য।

সে যা-ই হোক, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আরও ৮ বছর বেঁচে ছিলেন শাহজাহান। সেই বন্দী দিনগুলোতে দুর্গের ছাদ থেকে তিনি দেখতেন তার জীবনের এই শ্রেষ্ঠ কীর্তি। শেষ বিকেলের বিরহ বেলায় তার হৃদয়ে হয়ত বেজে উঠত প্রিয়হারা বেদনার করুণ সুর।

যৌবনের প্রেম-ভালবাসায় ভরা জৌলুসের দিনগুলো স্মরণ করে তার চোখ হয়ত ছলছল করে উঠত। মৃত্যুর পর শাহজাহানকে সমাহিত করা হয়েছিল মুমতাজ মহলের সাথে স্বপ্নের তাজমহলের ভেতরে।

14Shares

Check Also

South africa vs bangladesh

South Africa VS Bangladesh | Commentary Live Stream । ICC World Cup 2019 । Live Cricket Score

South Africa VS Bangladesh | Commentary Live Stream । ICC World Cup 2019 । Live …

New Zealand vs Sri Lanka | ICC Cricket World Cup 2019 – Match Highlights

Watch full highlights of the New Zealand vs Sri Lanka match at Cardiff, Game 3 …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *