বাংলাদেশী বিজ্ঞানী প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম

ছোট এক ছেলের প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশে বিজ্ঞানী নেই কেন ? উত্তরে বলেছিলাম কে বলেছে নেই ?

জগদীশ চন্দ্র বসু , জামাল নজরুল ইসলাম , মাকসুদুল আলম , মেঘনাদ সাহা , সালার খান আরো কত আছে । তার পরবর্তী কথাটি ছিল জগদীশ চন্দ্র বসু ছাড়া বাকি সবার নাম আজকে প্রথম শুনলাম । চিন্তা করলাম কিছুক্ষন দোষটা কার , আমার সময়ে পাঠ্যবই ( বোর্ড বই ) এর মধ্যে আমিও জগদিশ চন্দ্র বসু ছাড়া আর কারো ব্যাপারে কখনো পড়েছি বলে মনে পড়ে না । অথচ নিউটন , আইনস্টাইন , ফ্যারাডে , এডিসন এদের সবাই চিনতাম । নিজের দেশের বিজ্ঞানীদের নিজেদের বই এর মধ্যেই পাইনি কখনো , অধিকাংশ বিজ্ঞানীর নাম জেনেছি ইন্টারনেট এ বা কারো মুখের কথায় । (Bangladeshi Scientist)
চলুন আজকে জেনে নেই বাংলাদেশেরই একজন বিজ্ঞানী সম্পর্কে , ২০০১ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে একটি গুজব রটেছিল। বাংলাদেশেও এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় যিনি গণিতের হিসাব কষে দেখান যে, সে রকম সম্ভাবনা নেই। কারণ, প্রাকৃতিক নিয়মে সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ এক সরলরেখা বরাবর চলে এলেও তার প্রভাবে পৃথিবীর কোন ক্ষতি হবে না।

তিনি ড. জামাল নজরুল ইসলাম , বিশ্বের মানুষের কাছে যিনি JN Islam নামে পরিচিত ছিলেন , তাকে অনেকে জিনিয়াস নজরুল ইসলাম বলেও ডাকত ।
তার জন্ম হয়েছিল ১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ঝিনাইদহ জেলায়। যদিও বংশসূত্রে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের । তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান , ফলাফল স্বরুপ ছোট থেকেই বিখ্যাত মানুষদের দেখা পেয়েছিলেন , বলা হয় কাজী নজরুল ইসলাম ও তাদের বাড়িতে এসেছিলেন এবং কবির নামের সাথে মিল রেখেই তার নাম রাখা হয় জামাল নজরুল ইসলাম । তার বাবা তখন এই শহরের মুন্সেফ (বর্তমানে সহকারী জজের সমতুল্য ) ছিলেন। তার বয়স যখন মাত্র ১ বছর তখনই তার বাবা কলকাতায় বদলি হন। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার মা মারা যান ।

ছোট বেলা থেকেই Bangladeshi Scientist জামাল নজরুল ইসলাম তার মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন , শৈশবে কলকাতার একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন জামাল নজরুল ইসলাম। সেখান থেকে আসেন চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তির সময় তার মেধা দেখে অভিভূত হন প্রধান শিক্ষক। মেধায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ডাবল প্রমোশন দিয়ে তুলে দেন ষষ্ঠ শ্রেণীতে।

এ কারণে তখনই অনেকের নজর কেড়েছিলেন তিনি। এখানে পড়লেন নাইন পর্যন্ত। এখানে পড়ার সময়ই গণিতটা ভালো লাগতে শুরু করে তাঁর। এ সময়ে তিনি নিজে নিজেই প্রচুর জ্যামিতি করতেন। নবম শ্রেণীতে উঠে চলে গেলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মারিতে, ভর্তি হলেন একটি বোর্ডিং স্কুলে, নাম লরেন্স কলেজ। লরেন্স কলেজ থেকে এ লেভেল এবং ও লেভেল সম্পন্ন করে ভর্তি হন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। সেখান থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি.এসসি অনার্স সম্পন্ন করেন। এরপর বৃত্তি নিয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে ট্রাইপজে তিন বছরের কোর্স দুই বছরে শেষ করেন। ১৯৬০ সালে কেমব্রিজ থেকেই মাস্টার্স।

আরো পড়ুন – ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে? ইন্টারনেট এর একটি সহজ ব্যাখ্যা।

 

১৯৬৪ সালে এখান থেকেই প্রায়োগিক গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।২০ বছর বয়সেই তিনি দু’বার বি.এসসি করে ফেলেন। জামাল নজরুল ইসলাম ১৯৮২ সালে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ডি.এসসি ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন স্টিফেন হকিংস এর সহপাঠী , ফ্রেডরিক হোয়েল , ব্রায়ান জোসেফসন , প্রফেসর আবদুস সালাম , জয়ন্ত নারলিকার মত বিজ্ঞানীরা ছিলেন নজরুল ইসলাম এর বন্ধু ।
স্টিফেন হকিং এর ব্ল্যাক হোল , ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম নামের বই এর নাম সকলের জানা থাকলেও জানা নেই জামাল নজরুল ইসলাম স্যারের কৃষ্ণ বিবর আর দ্যা আল্টিমেট ফেট অফ ইউনিভার্স এর নাম আমরা কেউ জানি না ।

ক্যামব্রিজ থেকে প্রকাশিত তার বিখ্যাত বই Rotating fields in general relativity বইটি আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম একটি বই ,তার লেখা এই ৩ টি বই এবং আর্টিকেল সমুহ ক্যাম্ব্রিজ , অক্সফোর্ড এর মত বড় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পাঠ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত, ১৯৮৪ সালে কেমব্রিজের সোয়া লাখ টাকা বেতনের অধ্যাপনার চাকরীটি ছেড়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র হাজার তিনেক টাকা বেতনে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ( মূলত ২৮০০ টাকা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়নি ) । এক বছর সেখানে অধ্যাপনাও করেন ।

গবেষনা ও পারিবারিক কাজে তার লন্ডনে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়, এর জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন করেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিচ্ছিল না। উপায় না দেখে চাকরি ছেড়ে চলে যান তিনি। দুই বছরে সেখানে তার গবেষণা সম্পন্ন করেন।

এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি সেখানকার বাড়ি-ঘর বিক্রি করে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। এরপর অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বেতন বাড়িয়ে তিন হাজার টাকায় করে আর মাঝখানের সময়টিকে শিক্ষা ছুটি হিসেবে গ্রহণ করে।
১৯৬০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি সুরাইয়া ইসলামের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে । ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ মধ্যরাতে এ মহান বিজ্ঞানী আমাদের ছেড়ে গেছেন।

হঠাৎ করেই লেখা শেষ করে দিলাম , বললে আরো অনেক কথাই বলা যেত , সোজা উপসংহার টেনে দেয়াই ভাল লেখাটি লেখার পূর্বে অনলাইনে প্রচুর ঘাটাঘাটি করতে হয়েছে , দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তাকে নিয়ে লেখা কম ছিল । ইউটিউবেও মাত্র কয়েকটি ভিডিও ছিল দেড় থেকে দুই মিনিটের , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের ওয়েবসাইট থেকে মাত্র ২ পৃষ্ঠার একটি পিডিএফ আর ওনার বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বকালীন কিছু ছবি ছাড়া আর কিছুই পেলাম না ।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া , বিভিন্ন ব্লগ , অনলাইন নিউজ পোর্টাল ।

তথ্য: মুহাম্মদ মুছা FROM রহস্যময় বিজ্ঞান জগৎ

ছবি: Quora

26Shares

Check Also

A 5G-Enabled Foldable iPad

৫ জি আইপ্যাড আসছে। 5G-Enabled Foldable iPad

অ্যাপেল এমন একটি প্যাড নিয়ে আসছে যেটা ৫জি নেটওয়ার্ক সাপর্ট করবে । অ্যাপেলের এই নোটকে …

২০১৯ সালে পাঁচটি শহরের আমুল পরিবর্তন আসবে

গত কয়েক যুগ ধরে পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের এই পৃথীবির। ১৯০০ সালে পুরো পৃথিবী জুরে মাত্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *