বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিয়ে মজার উপস্থাপন

“আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় দর্শকমণ্ডলী। হুজুর টিভির আয়োজন নিয়ে আবারো আপনাদের মাঝে ফিরে এলাম আমি আবু ফুলান। আসলে না এসে কীভাবে থাকি বলুন? আমি তো জানি আপনারা আমার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা কতটা ভালোবাসেন। আমার জন্য কত অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। আমাকে দেখার জন্য কত…”

ক্যামেরার পেছন থেকে শোনা গেলো ইবনে ফুলানের কণ্ঠ, “ওস্তাদ, মনের ভেতর অণু পরিমাণ অহংকার থাকলে কিন্তু জান্নাতে যাইতারবেন না। কত নযির দেখলাম ইসলামের নাম দিয়া কাজ শুরু করছিলো। পরে খ্যাতির ফেতনায় পইড়া গোল্লায় গেছে।”

আবু ফুলান দাঁত কিড়মিড় করলো কিন্তু কোনো জবাব খুঁজে পেলো না। শেষে বললো, “তো দর্শক, যেই আঁতেলের কণ্ঠ এই মাত্র আপনারা শুনলেন সে আপনাদের সবার প্রিয় ক্যামেরাম্যান ইবনে ফুলান। আমার থেকেও যে আপনাদের বেশি প্রিয়। প্লিজ তাকে কেউ ফেতনায় ফেলবেন না।

“প্রিয় দর্শক, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ভালোবাসা। আপনারা জানেন, এসব প্রেম কেবলই গেম। গেমের শেষে শুধুই পরস্পরকে ব্লেম। যা পরবর্তীতে ডেকে আনে শেম। সমাজে নিন্দিত হয় তাদের নেম। তাই চলুন আজ দেখে আসি কী প্রকারে প্রেমিক প্রেমিকারা প্রেমাস্পদের প্রীতিতে পাগলপারা হয়ে পার করছে পুরো দিনটি।”

কিছুদূর হাঁটতেই দড়াম করে কারো গায়ের সাথে ধাক্কা খেলো আবু ফুলান। স্যরি বলতে গিয়ে আবু ফুলান চিনে ফেললো ফাদার ডি কস্টাকে, “ও ফাদার কস্টা। কেমন আছেন? আমি খুবই স্যরি ধাক্কা লেগে যাওয়ায়।”

– “ব্লেস ইউ, মাই চাইল্ড। ব্লেস ইউ।”

– “ফাদার আপনাকে আজ এত মনমরা লাগছে কেন? হুজুরদের তৎপরতার কারণে মিশনারীর জালে মাছ কম ধরা পড়ছে বুঝি?”

– “কী আড় বলিবো বেঙ্গলিদের কঠা! ভ্যালেন্টাইন’স ডের প্রকৃট ইটিহাস ছিলো কী, আড় ইহাড়া কড়িটেছে কী!”

– “তাহলে ফাদার আপনি আমাদের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে পারবেন? প্লীজ জানান। আমাদের আজকের আয়োজন এই দিবসটি নিয়েই।”

– “অফকোর্স বলিবো, মাই চাইল্ড।”

– “আসুন ফাদার। এই বেঞ্চে আরাম করে বসুন। এবার বলুন।”

– “আমড়া ক্রিশ্চিয়ানড়া আমাদের সাঢু-সন্ন্যাসী, অর্ঠাট Saintডেড় অনেক সম্মান কড়ি। এজন্য আমাডেড় এক বিশেষ ক্যালেন্ডার ড়হিয়াছে। ইহাকে আমড়া বলি ক্রিশ্চিয়ান লিটার্জিকাল ইয়ার। ইহা একেকজন saint এর মৃট্যুবার্ষিকীর হিসাব সম্বলিট একখানা ক্যালেন্ডার।”

– “দেয়ালে এত ক্যালেন্ডার ঝোলানোর জায়গা পান কোথায়?”

-“একেক date এ একেক saint কে স্মড়ণ কড়িয়া আমড়া feast আয়োজন কড়ি। Feast বোঝো টো?”

– “মানে পীরবাবাদের উরসের মতো খাওয়া-দাওয়া পার্টি-শার্টি এই তো নাকি?”

– “নো, মাই চাইল্ড। এই feast হইলো জাস্ট স্মড়ণ কড়া। Saint এড় নাম অনুযায়ী সেই ডে-কে আমড়া বলি Feast Day of Saint অমুক। অথবা Saint অমুক’s Day.”

– “বাহ! সেইন্ট ফুলান’স ডে। শুনতে দারুণ লাগে তো!”

– “একসময় saint এড় সংখ্যা এটো বাড়িয়া গেলো যে একই ডে-তে কয়েকজনেড় feast day পড়িয়া যায়। আবাড় একই নামেড় কয়েকজন saint এড় নাম হিস্ট্রি-টে পাওয়া যায়। সেইন্ট ভ্যালেন্টিনাস (রোমান স্যান ভ্যালেন্টিনো) নামক কয়েকজন সেইন্টকে স্মড়ণ কড়িয়া যে feast কড়া হয় টাহাই ভ্যালেন্টাইন’স ডে।”

– “এই ১৪ ফেব্রু তাহলে ভ্যালেন্টাইন বাবার উরস শরীফ?”

– “ওয়েস্টার্ন ক্রিশ্চিয়ান চার্চের মটে ১৪ ফেব্রুয়ারি, বাট ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চের মটে ৬ জুলাই।”

– “বলেন কী ফাদার? ভালোবাসার জন্য প্রাণ দেওয়া এক মনীষীকে নিয়ে এমন মতভেদ?”

– “এই যে বলিলে ভালোবাসার কঠা, এটা হিস্টরিকাল ফ্যাক্ট নয়। স্যান ভ্যালেন্টিনোকে নিয়ে সঠিক ইনফর্মেশন হিস্ট্রি-টে নেই। টাহাকে লিস্ট কড়া হইয়াছে এমন একজন হিসেবে যাড় নাম আমড়া জানি, বাট কাজ কেবল গডই জানেন।”

– “তাহলে যে শুনি তিনি ভালোবাসার বেদীতে প্রাণ সঁপে দিয়ে…”

– “কোনো প্রুফ নেই, মাই চাইল্ড। ফোর্টিন্থ সেঞ্চুরিটে আসিয়া জিওফ্রে চওসার টার সাহিট্যে ১৪ ফেব্রুয়ারির সাঠে রোমান্টিক লাভ মিশাইয়া গল্প বানায়। এইটিন্থ সেঞ্চুরি হইটে ইংল্যান্ডে ইহা ভালোবাসা প্রকাশেড় একটি ডিন হিসেবে চালু হয়। লাস্ট সেঞ্চুরির শেষ ডিকে ইহা বাংলাডেশে ঢোকে ‘ভালোবাসা ডিবস’ নাম ডিয়া।”
.
– (আবেগী কণ্ঠে) “স্যান ভ্যালেন্টিনোর স্মৃতির প্রতি এ অপমান এই আবু ফুলান মেনে নেবে না, ফাদার। আপনি বলুন আমায় কী কড়িটে হইবে…আই মীন…করতে হবে।”
.
– “স্যান ভ্যালেন্টিনোকে লইয়া কাহিনী আছে যে টিনি জেইলে ঠাকা অবস্ঠায় সৈনিকডের বিবাহ পড়াইটেন। টোমড়া একজন হুজুড় লইয়া নামিয়া পড়ো। যেখানেই কাপল পাইবে, বিবাহ পড়াইয়া ডিবে। ওঠো ইয়াং ম্যান! ঝাঁপাইয়া পড়ো!”
.
আবেগে তাকবীর দিয়ে ফেললো আবু ফুলান আর ইবনে ফুলান। দৌড়ে গেলো নিকটস্থ কাজি অফিসে। দেখলো কাজি সাহেব হালকা নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন আর বিড়বিড় করছেন, “এক্ষুণি এই মহিলার আত্মসাৎকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দাও। নাহলে তোমাকে ৮০ বেত্রাঘাত করা হবে।”
.
আবু ফুলান ডাকলো, “ক্বাদ্বি সাহেব উঠুন। কী প্রলাপ বকছেন?” কাজি সাহেব ধড়মড় করে উঠে চোখটোখ কচলে বললেন, “আসলে খিলাফাহ যখন ছিলো তখন আমরা ছিলাম বিচারপতি। আর এখন কেবল বিয়ে পড়াই। পুরনো স্মৃতি ভুলতে পারি না, বাপজান।”
.
আবু ফুলান বললো, “এখন স্মৃতি রোমন্থনের সময় নয়, ক্বাদ্বি সাহেব। বিয়ে পড়াতে হবে। সেইন্ট ভ্যালেন্টিনাসের চেতনা বৃথা যেতে দেবো না।”
.
কাজি সাহেব আবু ফুলানের মাথায় একটা ঠুয়া মেরে বললেন, “নিশ্চয় কোনো খ্রিষ্টান মিশনারীর পাল্লায় পড়ছো বাপজান। ফেসবুকে যেমন তারা মিষ্টি মিষ্টি নামের পেজ খুলে মুসলিমদেরকে কৌশলে দাওয়াত দেয়, তোমরাও এমন কারো পাল্লায় পড়োনাই তো?”
.
আবু ফুলান মাথা ডলতে ডলতে বললো, “বিয়ের মাঝে খারাপ কী আছে, ক্বাদ্বি সাহেব?” কাজি সাহেব বললেন, “বিয়ে পড়াবো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এখানে ওইসব বেলেন্টাইন না কে…উনি আসবে কেন?” আবু ফুলানের জবাব, “ভুল হয়ে গেছে ক্বাদ্বি সাহেব হুজুর। নিয়ত সহিহ করে নিয়েছি। এখন তাহলে কাজে নেমে পড়ি?”
.
“দর্শকমণ্ডলী, পার্কে এখন যাচ্ছি মোরা। থাকবে যেথায় অনেক জোড়া। মোদের কাছে পড়বে ধরা। দেবো তাদের বিয়ে পড়া।”
.
কিন্তু মাইক্রোফোন আর ক্যামেরা হাতে তিন হুজুরকে আসতে দেখেই পার্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেলো। এতক্ষণ ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে থাকা কাপলরা একে অপরকে ফেলে উর্ধ্বশ্বাসে দিগ্বিদিক দৌড়াতে লাগলো। তাদেরকে দৌড়ে ধরার চেষ্টা করতে লাগলো তিন হুজুর। আবু ফুলান মিসওয়াক দিয়ে দাঁতগুলো একটু ঘষে নিয়ে সুরে সুরে ডাক দিলো, “কাছে এসো। কাছে এসো। কাছে এসো না। ও ও ও ও…” কিন্তু কেউই ধরা দিলো না। কাজি সাহেব বললেন, “আসলে যে ভালোবাসা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় না, তা এভাবেই দরকারের সময় দূরে সরে পড়ে। মুখে দুর্গন্ধ থাকুব বা না থাকুক।”
.
***
.
“প্রিয় দর্শক, মিশনে ব্যর্থ হয়ে ক্বাদ্বি সাহেবকে বিদায় দিয়ে এখন আমরা দাঁড়িয়ে আছি লিটনের ফ্ল্যাটের সামনে। দর্শক, চলুন কথা বলি লিটন ভাইয়ের সাথে।”
.
আবু ফুলান কলিংবেল টিপতেই কেউ একজন দরজা খুলে “ওরে বাবা!” বলে আবার দড়াম করে বন্ধ করে দিলো। আবু ফুলান বললো, “লিটন ভাই, প্লিজ ভয় পাবেন না। উই আর হুজুর টিভি প্রতিনিধি অ্যান্ড উই আর নট টেররিস্টস।”
.
একটু পর দরজা খুলে কালো বোরকায় আপাদমস্তক ঢাকা একজন বেরিয়ে এলো। আবু ফুলান ও ইবনে ফুলান সসম্মানে পথ ছেড়ে দিলো। আবু ফুলান নিচের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আচ্ছা বোন, আপনি কি বলতে পারেন লিটন ভাই আমাদের একটু সময় দিতে পারবেন কিনা?” বোনটি পুরুষদের মতো গলায় জবাব দিলো, “লিটন বাসায় নাই।” আবু ফুলান বললো, “আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু বোন, আপনার কণ্ঠ পুরুষদের মতো কেন?” বোনটি কিছু না বলে দৌড়ে পালিয়ে গেলো। আবু ফুলান বুঝলো লিটনই বোরকা পরে পালিয়ে গেছে।
.
“প্রিয় দর্শক, আজকের অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষণ হিসেবে আমরা এসেছি ফুলের দোকানে। আসুন কথা বলি দোকানদারের সাথে।”
.
কিন্তু তার আগেই আবু ফুলানের ফোন বেজে উঠলো। সে স্ক্রীন দেখে ইবনে ফুলানকে বললো, “ওই, উম্মে ফুলান ফোন দিছে। ক্যামেরা অফ কর।” কিন্তু ইবনে ফুলান আগের অপমানের শোধ নিতে ক্যামেরা আরো জুম করে ধরলো। আবু ফুলান টের পেলো না। ফোন রিসিভ করে হাসি হাসি মুখে বলতে লাগলো,
.
“আসসালামু আলাইকি হে প্রিয়তমা স্ত্রী…কী? পার্কে? না না ওখানে তো আমরা বিয়ে পড়াতে গিয়েছিলাম…না না মেয়েদের পেছন পেছন দৌড়ালাম কোথায়?…আরে কী বলে? বোরকা পরা মেয়ের সাক্ষাতকার আবার কখন নিলাম?…আরে শোনো, তোমার অনুমতি ছাড়া কি আমি দ্বিতীয় বিয়ে করবো নাকি?…ওহ ফুলের দোকানে এসেছি তো তোমার জন্য কয়েকটা ফুল কিনতে। তোমার জন্য ফুল আনবো বলেই তো আমি আবু ফুল-আন…না না কোনো ফেতনায় পড়িনি। সবসময় দৃষ্টি অবনত করে রাস্তায় চলাফেরা করেছি…কেন কেন বাপের বাড়ি যাচ্ছো কেন?…না না আমি এক্ষুণি বাসায় আসছি…ওই রিকশা দাঁড়াও…”
.
অনুষ্ঠান শেষ না করেই মাইক্রোফোন ছুঁড়ে ফেলে বাসার দিকে দৌড় দিলো আবু ফুলান।
.
#HujurHoye

 

0Shares

Check Also

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা । আরিফ আজাদ

‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা আছে। একবার এক লোক এসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *