কিভাবে স্পেস শাটল কাজ করে/ কিভাবে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসে?

কিভাবে স্পেস শাটল কাজ করে/ কিভাবে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসে?

পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে সফলভাবে প্রবেশ করার জন্য এবং অবতরণ বা ল্যান্ডিংয়ের জন্য অনেক বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হয় এবং সকল কিছু ঠিকমতো পরিচালনা করতে হয়। প্রথমে অরবিটার বা শাটলটি সঠিকভাবে পরিচালনা করে সঠিক জায়গায় আনতে হবে যেখান থেকে ল্যান্ডিংয়ের জায়গায় পৌছানো যাবে। এটি একটি নিরাপদ অবতরণ বা ল্যান্ডিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যখন একটি মিশন সমাপ্ত হয় এবং শাটল অবতরণ স্থান থেকে পৃথিবীর প্রায় তার অর্ধেক দূরত্বে অবস্থান করে তখন কেনেডি স্পেস সেন্টার অথবা এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে মিশন কন্ট্রোল শাটলকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে নির্দেশ দেয়। তখন মিশন কন্ট্রোল তাদের কিছু কাজ করতে বলে। এগুলো হলো:

 ১। শাটলের দরজা বন্ধ করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শাটলটি নাক সামনে এবং পিছনের অংশ উল্টো দিকে দিয়ে উড়ে। তখন তারা আরবিএস থ্রাস্টারকে চালু করে দেয় যার ফলে স্পেস শাটল সোজা হয়ে যায়। 

২। শাটল সোজা হওয়ার পর শাটলকে পৃথিবীর দিকে দ্রুত পড়া থেকে আটকানোর জন্য নভোচারীরা শাটলের ওএমএস ইঞ্জিন চালু করে দেয়। এক্ষেত্রে বায়ুমন্ডলের প্রথম ধাপে পৌছাতে শাটলের ২৫ মিনিট সময় লাগে।

৩। এই সময়ে নভোচারীরা আবার শাটলকে সঠিক কৌণিক অবস্থানে নেয়ার জন্য আবার আরসিএস থ্রাসটার চালু করে দেয় যাতে শাটলের নিচের দিক পৃথিবীর দিকে প্রায় ৪০° মুখ করে থাকে।

৪। অবশেষে, তারা বিশেষ নিরাপত্তার জন্য আরসিএস থ্রাস্টারের এর বাকি জ্বালানি টুকু জ্বালিয়ে দেয় কারন পৃথিবীতে প্রবেশের এই সময়ে শাটেলের গতি ও তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। আর এই জ্বালানি টুকু তাদেরকে শাটেলের গতি কমাতে সাহায্য করে। শাটলটির ঘণ্টায় ১৭০০০ মাইল বা ২৪০০০ কিলোমিটার গতি হওয়ায় এটি বাতাসের অনুর সাথে ঘর্ষণের ফলে ৩০০০° ফারেনহাইট বা ১৬৫০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা উৎপন্ন করে। শাটলটিকে এই তাপমাত্রা থেকে রক্ষা করার জন্য এবং এর শরীর শীতল রাখার জন্য এর পুরো দেহ কিছু উপকরণ দ্বারা ঢাকা থাকে। এই উপকরণ গুলোঃ

১। শাটলের নিচের দিকে এবং ডানার উপরে কার্বন-কার্বন দ্বারা ঢাকা শক্তিশালী একটা স্তর থাকে।

২। উপরের দিকের কাঠামো এবং জানালার চারপাশে একটা উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল এবং শীতল রাখার জন্য এক ধরণের কালো টাইলস লাগানো থাকে।

৩। পে-লোড বে দরজার উপরে, ডানার উপরের এবং শাটলের শরীরের মাঝ বরাবর সাদা নোমেক্স এর মত বা পুরু কম্বলের মত একটা আস্তরণ থাকে।

৪। অবশিষ্ট এলাকার উপর নিম্ন তাপমাত্রা সহনশীল সাদা পৃষ্ঠ সমৃদ্ধ টাইলস লাগানো থাকে। 

শাটলকে পৃথিবীতে পুনরায় প্রবেশ করানোর জন্য প্রস্তুত করা 

এই উপকরণগুলি তাদের নিজেদের তাপমাত্রা বৃদ্ধি না করে প্রচুর পরিমাণে তাপ শোষণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অন্য কথায়, তাদের একটি উচ্চ তাপ শোষণ ক্ষমতা আছে। পুনরায় প্রবেশের সময় স্টিয়ারিং জেটগুলি চারপাশে শাটেলকে ৪০° কৌণিক অবস্থানে থাকতে সহায়তা করে। কক্ষপথে ঘিরে থাকা বায়ুমন্ডলের গরম আয়নিত গ্যাস প্রায় ১২ মিনিটের জন্য স্থলের সঙ্গে শাটলের রেডিও যোগাযোগ প্রতিরোধ করে দেয় বা বন্ধ করে দেয়। যখন পুনরায় প্রবেশ সফল হয় এবং শাটলটি বায়ুমন্ডলের প্রধান বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন এটি বিমানের মতো উড়তে সক্ষম হয়। শাটলটি বিশেষ গঠনের জন্য সে তার ছোট ডানাগুলো দিয়ে ছোট মাপের একটা লিফট উৎপন্ন করতে পারে। এই সময়ে, ফ্লাইট কম্পিউটার শাটলটি উড়ায়। শাটলটি এস-আকৃতির মতো করে এদিক থেকে ওদিক ঘুড়ে ঘুড়ে উড়তে থাকে যা তার গতি কমিয়ে আনে। যখন শাটলটি ১৪০ মাইল বা ২২৫ কিলোমিটার দূরে এবং ১৫০,০০০ ফুট বা ৪৫,৭০০ মিটার উপরে থাকে তখন মিশন কমান্ডার শাটলের পরিচালনার দ্বায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন। যখন শাটলটি ২৫ মাইল বা ৪০ কিলোমিটার দূরে থাকে তখন শাটলটির ল্যান্ডিং কম্পিউটারের দ্বায়িত্ব কমান্ডার নিজের হাতে তুলে নেন। শাটলটির উচ্চতা কমানোর জন্য এবং এটিকে রানওয়ে বা বিমানের নামার জন্য নির্মিত পথে আনার জন্য কমান্ডার ১৮০০০ ফুট বা ৫৫০০ মিটারের একটা কাল্পনিক পরিধির মধ্যে এটিকে উড়াতে শুরু করেন। একদম শেষে শাটল নামার সময় কমান্ডার এর সামনের অংশটিকে -২০° উপরে তুলে দেন।  

অবতরণের সময় এবং এর পর যা যা করা হয়

যখন শাটলটি ২০০০ ফিট বা ৬১০ মিটার উপরে থাকে কমান্ডার তখন গতি কমানোর জন্য এর সামনের অংশটি উপরে তুলে দেন। এরপর পাইলট ল্যান্ডিং গিয়ার চালু করে দেন এবং কিছুক্ষণ পর শাটলটি মাটিতে নেমে আসে। তখন শাটলের গতি কমানোর জন্য পাইলট প্যারাসুটটি খুলে দেন। প্যারাসুট এবং লেজের উপরে থাকা স্পিড ব্রেকার শাটলের উপরে টান বাড়িয়ে দেয়। শাটলটি রানওয়ের তিন-চতুর্থাংশের অর্ধেক এলাকার মধ্যে থেমে যায়।

ল্যান্ডিংয়ের পরে নভোচারীরা শাটলটি বন্ধ করার জন্য কিছু কাজ করে। এর জন্য প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ে শাটলটি ঠান্ডা হয় এবং বায়ুমন্ডলে প্রবেশের সময় তৈরী বিষাক্ত গ্যাসগুলো উড়ে যায়। তারপর শাটলটি বন্ধ হয়ে যায় এবং নভোচারীরা বেরিয়ে আসে। এ সময়ে অন্যান্য লোকেরা শাটলটিকে সার্ভিস দিতে শুরু করে।

ছবি ঃ  (), তথ্য ঃ ()

Written By: Zubayer Hossain

26Shares

Check Also

islamic news

“ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিভিন্ন অজুহাতে হত্যা নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধে করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ …

A 5G-Enabled Foldable iPad

৫ জি আইপ্যাড আসছে। 5G-Enabled Foldable iPad

অ্যাপেল এমন একটি প্যাড নিয়ে আসছে যেটা ৫জি নেটওয়ার্ক সাপর্ট করবে । অ্যাপেলের এই নোটকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *