মাদের সমাজে একটা গোষ্ঠির মাঝে প্রকট একটি ধারণা বাসা বেধে আছে যে সত্যই কি ইসলাম সামাজিক ভাবে উপকৃত? এমন ধারনা তাদের মনে আসার কারনটা ‍খুব বেশি অমূলক নয়। তারা বা আমরা ইসলামকে কতটা জানতে পেরেছি। যারা ইসলামের দায়ী ব্যক্তি তারা ইসলামকে কতটা মৌলিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারছি।

আমাদের উপস্থাপন প্রক্রিয়া কতটা বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? আমাদের দায়ী ব্যক্তিদের মাঝে ব্যাপক পার্থক্য ভিন্ন ভিন্ন মৌলিক বিশ্বাস (যদিও আল্লাহ ও রাসূলে বিশ্বাসটা ঠিক আছে)। বিতর্ক মনভাব সবমিলিয়ে কি সত্যই ইসলামের প্রকৃত বিষয়টি উপস্থাপিত হচ্ছে ? আজ আমি এগুলো নিয়ে কথা বলবো না। ইসলাম অবস্যই সামাজিক ভাবে খুবই উপকারি একটা জীবন ব্যবস্থা এটা আমরা শুনেছি, তার তার কিছু কিছু ব্যাপারে জানার চেষ্টা করবো।

 

০১. কথাবার্তায় কর্কশ হবেন না। (০৩: ১৫৯)
০২. রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন (০৩: ১৩৪)।
০৩. অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। (০৪: ৩৬)
০৪. অহংকার করবেন না। (০৭: ১৩)
০৫. অন্যকে তার ভুলের জন্য ক্ষমা করুন (০৭: ১৯৯)
০৬. লোকদের সাথে ধীরস্থির হয়ে শান্তভাবে কথা বলুন। (২০: ৪৪)
০৭. উচ্চস্বরে কথা বলবেন না। (৩১: ১৯)
০৮. অন্যকে উপহাস করবেন না (৪৯: ১১)
০৯. পিতামাতার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন। (১৭:২৩)
১০. পিতামাতার প্রতি অসম্মানজনক শব্দ উচ্চারণ করবেন না। (১৭: ২৩)

১১. অনুমতি না নিয়ে পিতামাতার শোবার ঘরে প্রবেশ করবেন না। (২৪: ৫৮)
১২. ঋণ গ্রহণ করলে তা লিখে রাখুন। (০২: ২৮২)
১৩. কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন না। (০২: ১৭০)
১৪. ঋণ গ্রহণকারীর কঠিন পরিস্থিতিতে পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিন। (২: ২৮০)
১৫. কখনো সুদের সাথে জড়িত হবেন না। (০২: ২৭৫)
১৬. কখনো ঘুষের সাথে জড়িতে হবেন না। (০২: ১৮৮)
১৭. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন না। (০২:১৭৭)
১৮. আস্থা রাখুন (০২: ২৮৩)
১৯. সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করবেন না। (২:৪২)
২০. ইনসাফের সাথে বিচার করবেন। (০৪: ৫৮)

২১. ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যান। (০৪: ১৩৫)
২২. মৃতদের সম্পদ তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুষ্ঠভাবে বিতরণ করুন। (০৪: ০৭)
২৩. মহিলাদের উত্তরাধিকারের অধিকার আদায় করুন। (০৪: ০৭)
২৪. এতিমদের সম্পত্তি গ্রাস করবেন না। (০৪: ১০)
২৫. এতিমদের রক্ষা করুন। (০২: ২২০)
২৬. অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করবেন না। (০৪: ২৯)
২৭. মানুষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করুন। (৪৯; ০৯)
২৮. সন্দেহ এড়িয়ে চলুন। (৪৯; ১২)
২৯. গুপ্তচরবৃত্তি করবেন না, কুৎসা রটাবেন না। (৪৯; ১২)
৩০. আল্লাহর বিধানুসারে বিচার করুন। (০৫; ৪৫)

৩১. সাদাকাতে সম্পদ ব্যয় করুন। (৫৭; ০৭)
৩২.দরিদ্রকে খাবার খাওয়ান। (১০৭; ০৩)
৩৩. অভাবীকে অভাব পূরুনের উপায় বাতলে দিন। (০২; ২৭৩)
৩৪. অপব্যয় করবেন না। (১৭; ২৯)
৩৫. খোঁটা দিয়ে দানকে নষ্ট করে দিবেন না। (০২; ২৬৪)
৩৬. অতিথিকে সম্মান করুন। (৫১; ২৬)
৩৭. কেবলমাত্র নিজে আমল করে তারপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যকে আমল করার আদেশ দিবেন। (০২;৪৪)
৩৮. কাউকে গালাগালি করবেন না। (০২; ৬০)
৩৯. লোকজনকে মসজিদে যেতে বাধা দিবেন না। (০২; ১৪৪)
৪০. কেবল তাদের সাথেই লড়াই করুন, যারা আপনার সাথে লড়াই করে (০২; ১৯০)

৪১. যুদ্ধের শিষ্টাচার মেনে চলুন। (০২; ১৯১)
৪২. যুদ্ধেংদেহী হবেন না। (০৮; ১৫)
৪৩. দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। (০২; ২৫৬)
৪৪. সকল নবির উপর ঈমান আনুন। (২: ২৮৫)
৪৫. স্ত্রীর মাসিকের সময় যৌন মিলন করবেন না। (০২; ২২২)
৪৬. আপনার শিশুকে পূর্ণ দুবছর বুকের দুধ খাওয়ান। (০২; ২৩৩)
৪৭. অননুমোদিত উপায়ে যৌন মিলন করবেন না। (১৭; ৩২)
৪৮. যোগ্যতা অনুসারে নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করুন। (০২; ২৪৭)
৪৯. কোনো ব্যক্তিকে সামর্থ্যের বাহিরে বেশি বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। (০২; ২৮৬)
৫০. বিভক্তি উসকে দিবেন না। (০৩; ১০৩)

৫১. মহাবিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করুন (৩: ১৯১)
৫২. আমল অনুযায়ী পুরুষ ও মহিলাদের সমান পুরষ্কার পাবেন; তাই আমল করুন। (৩: ১৯৫)
৫৩. ‘মাহরাম’ আত্মীয়কে বিবাহ করবেন না। (০৪; ২৩)
৫৪. পুরুষ হিসেবে মহিলাদের সুরক্ষা দিন। (০৪; ৩৪)
৫৫. কৃপণ হবেন না । (০৪; ৩৭)
৫৬. অন্তরে পরশ্রীকাতরতা পুষে রাখবেন না। (০৪; ৫৪)
৫৭. একে অপরকে হত্যা করবেন না। (০৪; ৯২)
৫৮. প্রতারণার পক্ষে ওকালতি করবেন না। (০৪; ১০৫)
৫৯. পাপ কাজে এবং আগ্রাসনে সহযোগিতা করবেন না। (০৫;০২)
৬০. সৎ কাজে সহযোগিতা করুন। (০৫; ০২)

৬১. সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই কোনোকিছু সত্য বলে গ্রহণ করবেন না। ( ০৬; ১১৬)
৬২. ন্যায়বিচার করুন। (০৫; ০৮)
৬৩. অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। (০৫; ৩৮)
৬৪. পাপ ও বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে লড়াই করুন (০৫; ৬৩)
৬৫. মৃত প্রাণী, রক্ত, শুকরের মাংস ভক্ষণ থেকে দূরে থাকুন। (০৫; ০৩)
৬৬. মাদক এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন (৫:৯০)
৬৭. জুয়া খেলবেন না। (০৫; ৯০)
৬৮. অন্য ধর্মের দেবদেবীদের অবমাননা করবেন না। (০৬; ১০৮)
৬৯. ক্রেতাকে ঠকানোর উদ্দ্যেশ্যে মাপে কম দিবেন না। (০৬; ১৫২)
৭০. খান এবং পান করুন; তবে অপচয় করবেন না। (০৭; ৩১)

৭১. নামাজের সময় ভালো পোশাক পরিধান করুন। (০৭; ৩১)
৭২. আশ্রয়প্রার্থীকে সুরক্ষা দিন, সহযোগিতা করুন। (০৯; ০৬)
৭৩. বিশুদ্ধতাকে আঁকড়ে ধরুন। (০৯; ১০৮)
৭৪. আল্লাহর রহমতের আশা কখনই পরিত্যাগ করবেন না। (১২; ৮৭)
৭৫. অজ্ঞতাবশত ভুল করলে আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশা করুন। ( ১৬; ১১৯)
৭৬. মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করুন হিকমা ও উত্তমভাবে। (১৬; ১২৫)
৭৭. অন্যের পাপের বোঝা কাউকে বইতে হবে না, বিশ্বাস করুন। (১৭; ১৫)
৭৮. দারিদ্র্যের ভয়ে আপনার বাচ্চাদের হত্যা করবেন না। (১৭; ৩১)
৭৯. যে বিষয়ে জ্ঞান আপনার জ্ঞান নাই, সে বিষয়ে কারও পিছু লাগবেন না। (১৭; ৩৬)
৮০. নিরর্থক কাজ থেকে দূরে থাকুন। (২৩; ০৩)

৮১. অনুমতি না নিয়ে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করবেন না। (২৪; ২৭)
৮২. যারা আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য তিনি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন, এই বিশ্বাস রাখুন। (২৪:৫৫)
৮৩. জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করুন। (২৫; ৬৩)
৮৪. পৃথিবীতে আপনার অংশকে অবহেলা করবেন না। (২৮; ৭৭)
৮৫. আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকবেন না। (২৮; ৮৮)
৮৬. সমকামিতার ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হবেন না। (২৯; ২৯)
৮৭. সৎ কাজের আদেশ দিন, অসৎ কাজে বাধা দিন। (৩১; ১৭)
৮৮. জমিনের উপর দম্ভভরে ঘুরে বেড়াবেন না। (৩১; ১৮)
৮৯. মহিলারা তাদের জাকজমকপূর্ণ পোষাক প্রদর্শন করে বেড়াবে না। (৩৩; ৩৩)
৯০. আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করেন, বিশ্বাস রাখুন। (৩৯; ৫৩)

৯১. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। (৩৯; ৫৩)
৯২. ভালো দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করুন। (৪১; ৩৪)
৯৩. পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। (৪২; ১৩)
৯৪. সর্বোত্তম মানুষ হওয়ার লড়াই করুন। (৪৯; ১৩)
৯৫. বৈরাগ্যবাদী হবেন না। ( ৫৭; ২৭)
৯৬. জ্ঞান অন্বেষণে ব্যাপৃত হোন। ( ৫৮; ১১)
৯৭. অমুসলিমদের সাথে সদয় এবং নিরপেক্ষ আচরণ করুন। (৬০; ০৮)
৯৮. লোভ থেকে নিজেকে বাঁচান। (৬৪; ১৬)
৯৯. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। (৭৩; ২০)
১০০. ভিক্ষুককে ফিরিয়ে দিবেন না। (৯৩; ১০)

 

এখানে সামান্য কিছু বিষয় বলা হয়েছে। এর প্রতিটা কথাই সামাজিক ভাবে ও সমাজকে প্রতিষ্টিত করতে খুবিই গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে। শত শত বছর ধরে কোরআনের এমন সুন্দর সুন্দর বিষয় গুলো নিয়েই সমাজ রাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে এসেছে। সারা পৃথিবীতে যখন ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু ছিল, তখন পৃথিবীকে বিশ্ব যুদ্ধের মত মহামারি দেখতে হয়নি।

যখনই বিভিন্ন চক্রান্তে ইসলামি শক্তির পতন হলো কুফুরি শক্তির প্রাধান্য পেল তখনই বিচার ও মানবিক মূল্যবধ এর কবর হয়ে গেলে। আপনি বা আমরা যদি আমাদের জিবদ্দ্যসায় ইসলামি শক্তির শাস্বন ব্যবস্থা দেখতে পারি তখনই বুঝবো ইসলাম কতটা সামাজিক। আর ইসলামের প্রকৃত সত্য তুলে না ধরে ইসলামের যুদ্ধের বিধানটাকে পুজি করে সারা পৃথিবীতে ইসলামের দূর্নাম করে মিথ্যাচার করছে।

মিডিয়ার বেশিরভাগ শক্তিই কুফুরি শক্তির হাতে থাকায় ইসলাকে দূর্নাম করে তারা সফল হচ্ছে। তৈরী হচ্ছে অসংখ্য ইসলাম বিদ্বেষ্যু মানুষ। তাই ইসলামি দায়ীদের অনেক গবেষনা করে সঠিক উপায়ে ইসলাম প্রচারের ব্যাপারে উৎসাহি হতে হবে।

0Shares