একনজরে ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম খলিল

ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম খলিল, পিতাঃ মৃত ডাঃ আজিজুর রহমান। 
গ্রামঃ মুনসেফপুর, পোষ্টঃ মহিপুর, জেলাঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

পিতা ডাঃ আজিজুর রহমান নরসিংদী জেলার ইউএমসি জুটমিলে উচ্চমান সহকারী অফিসার পদে চাকুরী করতেন। তিনি জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। ইসলামী অনুশাসন খুব একটা মেনে চলতেননা। প্রচণ্ড মেধাবী ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ১৮ দিনে পায়ে হেঁটে নরসিংদী হতে চাঁপাই নিজ গ্রামে চলে যান, কোন যানবহন ছাড়াই। তিনি ভূগোলের ভালো ছাত্র ছিলেন এবং ম্যাপ সম্পর্কে খুব ভালো জানতেন। সংসারের বড় ছেলে হওয়ায় পরিবারের বিশাল দায়িত্ব কাঁধে থাকায় যুদ্ধে যোগদান করতে পারেননি। ক্লাস ফাইভে যখন পড়তেন, তখন তাঁর পিতা সাত সন্তান রেখে মারা যান। তিনি ছিলেন সংসারের বড় ছেলে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুনরায় ইউএমসি জুটমিলে চাকুরীতে জয়েন করেন। তিনি প্রচুর স্টাডি করতেন, সত্য জানার চেষ্টা করতেন এবং সঠিক রাস্তা বের করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতেন। তিনি যে পথে আছেন সে পথ মুক্তির পথ নয় ভালো করেই জানতেন, কিন্তু সঠিক পথ বের করতে পারছিলেননা।

একদিন নরসিংদীর আলিজান জুটমিলে চরমোনাই এর মরহুম পীর সাহেব মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম রহঃ খেলাফত লাভের প্রথম দিকে আসলেন মাহফিল করতে। সেখানে গেলেন দেখতে এরা কি বলে যাচাই করতে। মাহফিলে গিয়ে মনের ভিতর একটা টান অনুভব করলেন। ডাঃ আজিজুর রহমান দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, শায়েখ রহঃ ষ্টেজে উঠার সময় তিনি মনের অজান্তেই দৌড়ে শায়েখকে গিয়ে সালাম দিয়ে মোসাফাহা করলেন। শায়েখ রহঃ ষ্টেজে উঠার সময় থমকে দাঁড়ালেন, এবং কি মনে করে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? ডাঃ আজিজুর রহমান বললেন, না হুজুর। শায়েখ রহঃ বললেন, যাও বিবাহ কর, তোমাকে তরীকার অনেক কাজ করতে হবে, তোমাকে দিয়ে তরীকার অনেক কাজ হবে।

বিষয়টি কাকতালীয়ভাবে অভাবনীয় হলেও ডাঃ আজিজুর রহমান এর মনের ভিতর প্রচণ্ড আলোড়ন তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি সকলের সাথে মাশোয়ারা করে, স্থানীয় মুজাহিদদের পরামর্শে পলাশ থানার বাগপাড়া গ্রামের মুন্সি বংশের মরহুম ইউসুফ আলী মুন্সির একমাত্র মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহ পড়ান শায়েখ রহঃ।

তরীকার কাজ

ডাঃ আজিজুর রহমান এরপর শায়েখ রহঃ কে ১৯৮০/৮১-র দিকে সর্বপ্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে যান, এবং তরীকার কাজ শুরু করেন।

পিতার প্রথম সন্তান মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর জন্ম হয় নানার বাড়ি পলাশে। জন্মের পর শায়েখ রহঃ ইব্রাহিমকে কোলে নিয়ে দোয়া দেন আদর করে দেন। শায়েখ রহঃ এর খুব আদরের এবং পরিচিত ছিল মোঃ ইব্রাহিম খলিল।

চরমোনাই তরীকার প্রধান প্রতিষ্ঠাতা, কুতুবুল আলম, মাওলানা সৈয়দ এছহাক রহঃ এর খাস মুরিদ, মকবুল দরবেশের দেওয়া নামানুসারে মোঃ ইব্রাহিম খলিল নাম রাখা হয়।

ডাঃ আজিজুর রহমান তাঁর ছোট ভাই মাওলানা আব্দুর রহমানকে আলেম বানান। জেনারেল বিএ পাশ করে উজানিতে ভর্তি করান, সেখান থেকে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসা এবং পটিয়া মাদ্রাসায় পড়েন। মাওলানা আব্দুর রহমান উজানীর বর্তমান পীর সাহেবের ক্লাসমেট ছিলেন।

মাওলানা আব্দুর রহমান আলিয়া থেকে তাফসিরে কামিল, জেনারেলে বিএ, কওমীতে তাকমিল ফিল হাদিস কমপ্লিট করেন। বড় ভাইয়ের কথায় মাওলানা আব্দুর রহমান চরমোনাই যান, এবং শায়েখ রহঃ কে সর্বপ্রথম নওগাঁ জেলায় নিয়ে তরীকার এবং দলের কাজ শুরু করেন। মাওলানা আব্দুর রহমানের হাতেই প্রথম তরীকার বীজ বপন হয় জেলায়, তিনি বর্তমানে রাজশাহী বিভাগীয় মুজাহিদ কমিটির নায়েবে সদর এবং নওগাঁ জেলার সদর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত 

মাওলানা আব্দুর রহমানের কাছেই মোঃ ইব্রাহিম খলিল লেখাপড়া করেন। সেখান থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। মোঃ ইব্রাহিম খলিল নওগাঁ জেলার বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে কাজ করেন। ১৯৯৪/৯৫/৯৬/৯৭/৯৮ সালে জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর মোঃ ইব্রাহিম খলিল ঢাকায় ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন, সেখান থেকে ডিএইচএমএস কমপ্লিট করে ২০০৩ সালে চিকিৎসক হয়ে বের হন।

১৯৯৯/২০০০ সালের দিকে তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় অফিসেই থাকতেন। ১৯৯৯ সালের দিকে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় সকলেই গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন, সে সময় মোঃ ইব্রাহিম খলিল সিনিয়র নেতাদের সাথে রাজপথে ভালো ভূমিকা পালন করেন।

২০০০/২০০১ সেশনের ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ খলিলুর রহমানের নির্দেশে ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন।

ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম খলিল দেশের বিভিন্ন জেলায় অসহায় গরীব মাজলুম মানবতার সেবায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ, যশোহর, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, কুমিল্লা, শরীয়তপুর, ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় দুঃস্থ মাননবতার চিকিৎসা সেবা দেন। সাদিয়া ফাউন্ডেশনের মেডিকেল অফিসার পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এসব এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করেন।

অসহায় মাজলুম রোহিঙ্গাদের জন্য ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম খলিল ১৬/১৭ বার ছুটে যান, এবং ফ্রি চিকিৎসা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এখনো নিয়মিত যাচ্ছেন। এই পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মাজলুমের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। রোহিঙ্গার মাজলুমদের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যে সেবা দিয়েছেন তা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একজন সামান্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হয়ে যা করেছেন তার জাযা মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন দিবেন।

ব্যাক্তিগত জীবনে ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম খলিল 
জমজ কন্যা সন্তানের জনক।

তিনার উচ্চতা- ৫.৫” ইঞ্চি।
গায়ের রং- উজ্জল শ্যামলা।
ওজন- ৭৬ কেজি।
প্রিয় রং- সাদা।


প্রিয় লেখক- আশরাফ আলী থানোভী রহঃ এবং শফিউদ্দিন সরদার। 


প্রিয় বক্তা- মরহুম শায়েখ রহঃ বর্তমান শায়েখ দ্বয় হাফিজাহুল্লাহ,  এবং মাওলানা মামুনুল হক। 


প্রিয় ক্বারি- রাফাত আল হুসাইন এবং নাজমুল হাসান।


প্রিয় শিল্পী- আইনুদ্দিন আল আজাদ 

সামী ইউসুফ, নাজেল আল আজামী। 
প্রিয় কবি- কাজী নজরুল ইসলাম। 


প্রিয় আবৃত্তি শিল্পী- ইবরাহীম কোব্বাদী


প্রিয় গ্রাফিক্স ডিজাইনার- Maruf Billah Saki


প্রিয় ফেসবুক লেখক- সাইমুম সাদীShamsud DohaPalash Rahmanশেখ ফজলুল করীম মারুফমারুফ নজরুল


প্রিয় পোশাক- পাজামা পাঞ্জাবী।


প্রিয় খাবার- চিকেন ফ্রাই, পিঁয়াজু, চিপস।
প্রিয় মিষ্টান্ন- দই।


প্রিয় লোকাল খাবার- মাশকালাইয়ের রুটি এবং বেগুণ ভর্তা।
প্রিয় ফল- ন্যাংড়া আম, আঙ্গুর। 


প্রিয় সখ- অসহায় মানবতার ফ্রি সেবা দেওয়া। বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করা। 
ভালো অভ্যাস- যে কাউকেই দ্রুত আপন করে নেওয়া। 


খারাপ অভ্যাস- অন্যায় সহ্য করতে না পারা, মিথ্যুক আর চোগলখুরীকে ঘৃণাভরে এড়িয়ে চলা।
বাসার অভ্যাস- পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, অগোছালো এবং ময়লা হওয়া যাবেনা।

ইচ্ছে- একটি জাতীয় মানের এনজিও করা, 
-যেখানে অসহায়দের ফ্রি চিকিৎসা হবে, 
-বিনা খরচে লাশ দাফন হবে, 
-ইয়াতিমদের পড়াশুনার দায়িত্ব নেওয়া হবে, 
-বিধবাদের কর্মসংস্থান করা, বয়স্কদের উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।
-পথশিশুদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া।

নির্বাচিত হলে-


-এলাকার যুব সমাজের চরিত্রের মানউন্নয়ন করা।
-মদ জুয়ার আসর অপসারণ করা।
-মসজিদ ভিত্তিক শিশুদের ইসলামী শিক্ষা অপরিহার্য করা।
-মসজিদে যোগ্য ইমাম নিয়োগ দিয়ে সকলকে নামাজমুখি করা।
-রাস্তাঘাট উন্নত এবং প্রসারিত করে দুই লেনের ব্যবস্থা করা।
-আবর্জনা এবং ময়লার জন্য নির্ধারিত জায়গা নির্ধারণ করা।
-বেকারত্বের অভিশাপ থেকে যুবসমাজকে সাধ্যমত মুক্তি দেওয়া। 
-কৃষিখাতের মানউন্নয়ন এবং কৃষকদের মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠা করা।
-জঙ্গি নিধন এবং মাদকের গোড়া নির্মূল করা।
-প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
-প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থার মানউন্নয়ন করা।
-অশ্লীলতা বেহায়াপনা মেলা সার্কাস বন্ধ করে গ্রহণযোগ্য শিক্ষণীয় মেলা প্রতিষ্ঠা করা। সুস্থ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
-ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের তাদের ধর্ম পালনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।
-কর্মসংস্থান তৈরি এবং যুবকদের ব্যবসার জন্য সহজ কিস্তিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

সাংবাদিক, প্রশাসনের লোক এবং অচেনা কিছু বন্ধুরা আমার সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমাদের দেশে বিশেষ করে বিয়ে করলে আর ভোটে দাঁড়ালে তার সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে বেশি। তাদের জন্যই এই আমার আমি লেখা। পরিকল্পনা আরো অনেক কিছু আছে। যদি মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা নির্বাচিত করেন, কাজ করার সুযোগ দেন তাহলে অনেক কিছুই করব ইনশাআল্লাহ্‌। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ক্ষমতার মালিক জনগণ নয়, একচ্ছত্র আধিপত্যর ক্ষমতার মালিক হচ্ছেন মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা।

এদেশের ভাগ্যের উন্নয়ন একমাত্র হাতপাখাই করতে পারবে,
এটা আমার বিশ্বাস। তাই হাতপাখাকে সমর্থন করা সচেতনতার পরিচয় বহন করে। আসুন হাতপাখাকে দেশ গড়ার কাজে ও ইসলাম রক্ষায় ঈমান বাঁচাতে সহযোগিতা করি।

5Shares

Check Also

আসলেও ইসলাম কতটা সামাজিক ?

আমাদের সমাজে একটা গোষ্ঠির মাঝে প্রকট একটি ধারণা বাসা বেধে আছে যে সত্যই কি ইসলাম সামাজিক ভাবে উপকৃত? এমন ধারনা তাদের মনে আসার কারনটা ‍খুব বেশি অমূলক নয়। তারা বা আমরা ইসলামকে কতটা জানতে পেরেছি।

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *