বিড়াল ছানার গল্প …

তখন আমার বয়স ৮ অথবা ৯ বছর । নানিদের বাড়িতে থাকতাম । নানির বাড়ির পিছেই হিন্দু জমিদারদের পুরনো বিল্ডিং ছিলো । আর প্রায় বিল্ডিং এর সাথে থাকতো একটি করে কুয়া । ( বিড়াল ছানার গল্প … – cats-story-bangla-news )

কুয়াটা আমরা নানি বাড়ির যে ঘরে থাকতাম তার পিছেই ছিলো । একবার হঠাৎ করে সেই কুয়া থেকে বিড়ালের বাচ্চার আওয়াজ শুনতে পেলাম । কুয়াটা ছিলো মাটির সাথে সমান করে ভাঙ্গা অর্থাৎ পার ছিলো না । মাটি বরাবর তার পরেই ধুপ, গভির । ২০ থেকে ৩০ ফিট এর মত গভির ছিলো ।

আমি সেখানে তাকাতেও ভয় পেতাম । বাড়ির আশে পাশের সবাই ঝার ঝুটো ময়লা ফেলতো । তো বিড়ালের আওয়াজ শুনে আমি গেলাম । আমার দিকে তায়িকে ম্যাও করে উঠলো । আমার কলিজায় মচর দিলো । আহা একি আজাব ।

মাকে বললাম পাত্তা দিলো না ।এর পরে আরো দুই একজন কে বললাম । কোন লাভ হলো না । আমি কষ্টে আর কুয়ার কাছে যাই না । অর ডাক শুনলেই আমার অস্থির লাগে ।

স্কুলে যাই এমনি তেই বাজে ছাত্র পড়া লেখা পারি না । তার উপর আরো মন টিকতো না । সারাদিন শুধু বাচ্চার কথা মনে পড়তো ।

নানার কাছ থেকে নিয়মিত ২ টাকা পেতাম খাজা খাওয়ার জন্য । সেটা নিয়ে পাওরুটি কিনে বিড়াল টাকে দিতাম । সে খেতো না । আরো কষ্ট লাগতো । অন্য যারা দেখেছিলো তারা ভাবতো এটা এভাবেই মরে যাবে ।

আমি আরিফ মামা কে বললাম, আমাদের বাবুপাড়ায় সে তখন জোয়ান গোছের মানুষ আর খুবই চটপটে । ছাদে উঠা ও অন্য অন্য কাজে বেশ পটু । সে বললো ১০ টাকা লাগবে তোর বিড়ালের বাচ্চা উঠাতে । আমি বললাম আচ্ছা দেবো ।

এর পরে বাচ্চা টা কে একনজর দেখে বাড়ি আসলাম । সারাদিরন চিল্লাইতো । ম্যাও ম্যাও ম্যাও । আমার আর ভালো লাগতো না ।

আমার স্কুল ও অন্য কাজে বেশ প্রভাব পড়লো কোন কিছুই ঠিক মত হচ্ছিলো না ।

নানার থেকে নিয়মিত খাজা খাওয়ার জন্য ২ টাকা পেতাম সেটা সংগ্রহ করতে লাগলাম । বাচ্চাটা সেখানেই । ৩ দিনে ৬ টাকা হলো । বাচ্চা ডাকছে না দেখে আমি দেখতে গেলাম দেখি নির্জিব হয়ে গেছে ডাকার শক্তি নেই । আমার আর ভালো লাগলো না। আমি সেই দিনই মা এর কাছে অন্য কথা বলে ৪ টাকা নিলাম । এক প্যাকেট টপ টেন সিগারেট কিনে তাকে খুজতে লাগলাম 

তাকে আর পাইনা । বাচ্চা টাকে দেখতে গেলাম, বেচে আছে ।আবার তাকে খুজতে লাগলাম । অনেক খুজে পেলাম । বললাম চলেন সিগারেট কিনেছি আপনার জন্য কুয়াতে নামবেন । বললো সিগারেট দে । বললাম না আগে তুলবেন তার পরে দিবো । কে শুনে কার কথা কেড়ে নিলো সিগারেট । একটায় আগুন ধরিয়ে বললো চল বেটা ।

আসলাম আমরা তাকাতেই সে অনকে কষ্টে ম্যাও করে উঠলো । আরিফ মামা বললো একটা টুকরি জোগাড় কর । সে আবার অন্য ঘটনা । কেউ টুকরি দেয় না । এর পরে একা গবর ফেলানোর জন্য ভাঙ্গা টুকরি নিয়ে আসলাম । সে তার সাথে বেশ কৌশল করে লতা বাধলো । উনি কুয়োয় নামবে বলে অনেক লোক জড়ো হলো । সে নামতে শুরু করলো । তিন ভাগের দুই ভাগ নেমে টুকরি টা নামিয়ে দিলো । বাচ্চাটা সেটার উপর আপনা আপনি চলে আসলো ।

আমার ভয় ছিলো সে ভয়ে অন্য রকম আচরণ করতে পারে । না তা করলো না । সে চলে আসলো টুকরিটার উপর  । এর পরে সেই টুকরি টেনে উপরে উঠানো হলো । বাচ্চা টা উপরে উঠেই দৌড়ে কই গেলো আর খুজে পাওয়া গেলো না ।

আমি বাস্তবিক অর্থে বিড়াল প্রচন্ড ভয়পাই। কিন্তু সেদিন অনেক মায়া হয়েছিল । আমার প্রিয় ব্যাক্তিত্ব আমার নানা ভাই ৬ টাকা দিয়ে এবং আমার মা ৪ টাকা দিয়ে , আরিফ মামা দশটাকার এক প্যাকেট টপটেন সিগারেট নিয়ে বিড়াল টাকে উঠিয়ে দেয়ায় তাদের অনেক ধন্যবাদ । আমার নানা মারা গেছেন প্রায় ৬ মাস । আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক । আরিফ মামা আর বাবুপাড়ায় থাকেন না । উনি ঢাকাতে ড্রইভিং করেন। আল্লাহ তাকেও ভালো রাখুক। আল্লাহ পৃথীবির সকল মানুষ কে জীবের উপর মায়া বাড়িয়ে দিক আমিন ।

লেখাঃ মোঃ অাতিকুর রহমান অমি রাজ 

8Shares

Check Also

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা । আরিফ আজাদ

‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা আছে। একবার এক লোক এসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *