Antibiotic Resistance | ঔষধ খাওয়ার আগে জানুন | Biggest Affair On Earth | Bangla1News

0
4
Bacterial Resistance

২০২৭ সাল! বিশ্বে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত জ্বরের তুমুল প্রকোপ। ( Bangla News )

সবাই কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলাকার পর এলাকা আক্রন্ত, মানুষ মরে সাফ।
.
সামান্য জ্বরেই যেন মড়ক লেগে গেছে। 
চিকিৎসকরাও বেসামাল, গবেষকদের মাথায় হাত! কোনো এন্টিবায়োটিকই এই প্রাণঘাতী জ্বরে কাজ করছেনা!

সকল এন্টিবায়োটিক মেডিসিনই যেন এই জীবাণুর কাছে দুধ ভাত। ব্যাক্টেরিয়ারা যেন এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে!

গবেষণায় দেখা গেল, ব্যাকটেরিয়াসমূহ তাদের দেহে এন্টিবায়োটিক রেসিটেন্স গড়ে তুলেছে।
.
বিশ্বের মানুষ নেমে গেলো ৭০০ মিলিয়ন হতে ২০ মিলিয়নে। এ কেমন মহামারী। বিশ্বজুড়ে আতংক, মানুষ জাতি আজ ধ্বংসের কাছাকাছি….. 
.
🔵 কি ভাবছেন, গল্প লিখছি? 
না এটা গল্প না, এটা বাস্তবতার অগ্রিম সতর্কতা। যা শুরু হয়ে গেছে এখনি।

🔵 কেন বলছি এ কথা?

আচ্ছা তবে চলুন যাওয়া যাক আরো গভীরে….
.
➡️ তার আগে আসুন জেনে নেই এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স কি?
.
এন্টিবায়োটিক হলো নির্দিষ্ট ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুতকৃত মেডিসিন। যা ক্ষতিকর রোগের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মানুষ ও অন্যন্য প্রাণীকে রক্ষা করে।

প্রতিটা প্রাণী যেমন অভিযোজনের ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। ব্যাক্টেরিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়।  ( Bangla News )
.
একটা নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে কোনো ব্যাকটেরিয়া তার দেহে সেই এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরী করতে শুরু করে।

তারপর পুর্ণ ডোজ কমপ্লিট করলে এই এন্টিবডি তৈরীর হার মেডিসিনের ডোজের হারের সাথে কমতে থাকে এবং ব্যাকটেরিয়া একসময় মারা যায় অসুখ ভালো হয়ে যায়। 
.
🕐 কিন্তু যদি এন্টিবায়োটিক ডোজ কমপ্লিট না করা হয় তবে?

তাহলে এই ব্যাকটেরিয়া সেই এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে তার দেহে উৎপাদিত এন্টিবডি বাড়াতে বাড়াতে নিজের দেহে বর্ম তৈরী করে ফেলে এবং সেই একই এন্টিবায়োটিক পরবর্তীতে তাকে আর ধ্বংস করতে পারেনা।

ধীরে ধীরে সেই ব্যাকটেরিয়া শক্তিশালী হতে শক্তিশালীতরে পরিণত হয় এবং তার অসংখ্য কপি তৈরী করে ছড়িয়ে পড়ে নন-রেজিস্টেন্স ব্যাকটেরিয়াসমূহের দেহেও রেজিস্টেন্স গড়ে তোলে। বিষয়টা ভয়ানক। 
.
🔵 এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স হলো বর্তমান বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়। যা ইতিমধ্যেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স ব্যাকটেরিয়ার যেন সংখ্যা বাড়তেই আছে, গনোরিয়া, রক্তদূষন, টিউবারক্লুসিস, পিনিওমোনিয়া এসব রোগে আর এন্টিবায়োটিক কাজ করেনা। 

 

আমরা অনেকেই নিজে স্বপ্রনদিত হয়ে বা হাতুরে ডাঃ পরামর্শে আমরা যে অ্যান্টিবায়টিক গ্রহন করে থাকি তা বেশির ভাগ সময়েই ঠিক হয় না।

 

ধরুন আমার বা আপনার বা আপনার সন্তানদের জ্বর আসলো, যেখানে কট্রিম জাতিয় ঔষুধ বা ডক্সিসাইক্লিন জাতিয় ঔষুধে কাজ হয়ে যেত সেখানে আমারা খেয়ে বসি অ্যামক্সাসিলিন , যেখানে কট্রিম জাতিয় ঔষুধ বা ডক্সি সাইক্লিন জাতিয় ঔষুধে ব্যাকটেরিয়া মারা যেত সেখানে অমরা খাই অ্যামক্সাসিলিন জাতিয় ঔষুধ। পরবর্তিতে এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরিরে আক্রমন করলে তখন সে অ্যামক্সাসিলিন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নিবে তখন সেই ব্যাকটেরিয়ায় অ্যামক্সাসিলিন এ আর কাজ করবে না । ( Bangla News )

 

যখন কোন অসুখের কারনে আমাদের প্রয়জন ছিলো অ্যামক্সাসিলিন আমরা পন্ডিতি করে নিজেরা খেয়ে নেই সিপ্রফ্লক্সাসিলিন । তো তখন ব্যাকটেরিয়া গুলো দ্রুত মারা যাবে ঠিকি কিন্তু ব্যাকটেরিয়া গুলো পরবর্তিতে সিপ্রফ্লক্সাসিলিন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নিয়ে জন্মনিবে তখন আর সিপ্রফ্লক্সাসিলিন আর কাজ করবে না।

 

আবার আমাদের শরিরে কোন একটা অসুখের কারনে খাওয়ার প্রয়জন ছিলো সিপ্রফ্লক্সাসিলিন আমরা খেয়ে নিলাম অ্যাজিথ্রোমাইসিন । ব্যাকটেরিয়া গুলো দ্রুত মারা যাবে ঠিকি কিন্তু পরবর্তিতে অ্যাজিথ্রোমাইসন কে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নিয়েই জন্ম নিবে। তখন অ্যাজিথ্রোমাইসন আর কাজ করবে না।

 

অথবা আমাদের শরিরে কোন একটা অসুখের কারনে প্রয়জন ছিলো অ্যাজিথ্রোমাইসিন আমরা ভুলভাল খেয়ে নিলাম সেফিক্সাইম । তো আমাদের ব্যাক্টেরিয়া গুলো মারা গেলেও পরবর্তিতে সেফিক্সাইম কে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নিয়ে ফিরে আসবে তখন আর সেফিক্সাইম আর কাজ করবে না ।

 

এভাবে প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের শরির কে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি যা আমাদের খুবই খারাপ পরিনিতি নিয়ে আসছে । ভুল সময়ে ভুল অ্যান্টিবায়টিক গ্রহন করে আমরা ধংস হচ্ছি । একটা সময় কনো অ্যান্টিবায়টিক আর এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করবে না । যখন কোন ঔষুধ আর কাজ করবে না , তখন আবার চিকিৎসা কিসের ।

.
 যেভাবে এই সমস্যার শুরুঃ

⚠️ এন্টিবায়োটিক গ্রহণ সম্পর্কিত নূন্যতম জ্ঞ্যান তৃতীয় বিশ্বের আপামর জনতার না থাকা। আর ভ্রমণের মাধ্যমে তা উন্নত দেশেও বিস্তৃতি লাভ করে।

⚠️ ফার্মেসী দোকানদার, হাতুড়ি ডাক্তার এমনকি রোগী নিজে স্বপ্রণোদিত হয়ে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করা।

⚠️ সামান্য সমস্যাতেই এন্টিবায়োটিক গ্রহন।

⚠️ এন্টিবায়োটিক কোর্স পূর্ণ না করা। এগুলোই মূলত আসল কারণ।

⚠️ সামান্য ভাইরাস জ্বরেই এন্টিবায়োটিক গ্রহণ কিন্তু যেখানে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ অপ্রয়োজনীয়। 
.
এখন এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য সমাজের প্রতিটা স্তরের মানুষকে সমভাবে এগিয়ে আসতে হবে নতুবা তা মানুষ জাতির বিলুপ্তির কারণ হতে সময় নিবেনা।  ( Bangla News )
.
চলুন জেনে নিই কিভাবে আমরা নিজ নিজ অবস্থান হতে ভূমিকা রাখতে পারি-
.
🔵 জনগণের ভূমিকাঃ

❌ প্রেস্ক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক গ্রহণ না করা।

✅ডাক্তার না বলার পরে নিজে থেকে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ না করা। সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা।

❌ মেয়াদহীন ও অনুমোদনহীন এন্টিবায়োটিক গ্রহণ না করা।

✅ ভালোমত হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিরাপদ যৌনকার্য করা এবং ঔষধের মাত্রা পরিপূর্ণ করা।

✅ খাবার রান্না করতে হবে পর্যাপ্ত তাপ দিয়ে। খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহে এন্টিবায়োটিক প্রদান না করা।
.
🔵 সরকারের ভূমিকাঃ

কথায় আছে, “প্রচারেই প্রসার।” আর সরকারের চেয়ে ভালো প্রচার কেউ করতে পারবেনা।

সরকারের উচিত হবে জাতীয়ভাবে এটা প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 
.
🔵 ডাক্তারদের ভূমিকাঃ

✅হাত ও অন্যন্য টুলস জীবাণুমুক্ত রাখা।

❌ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব না করা। ( Bangla News )

✅রোগীকে এন্টিবায়োটিক গ্রহণে সতর্ক করা এবং রোগীকে নিরাপদ থাকার পরামর্শ প্রদান। (যেমন, নিরাপদ সেক্স, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, হাত ধোওয়া ইত্যাদি )

.
🔵 অন্যন্যদের ভূমিকাঃ
.
✅মেডিসিন ইন্ডাস্ট্রি ও গবেষকবৃন্দের উচিত নতুন এন্টিবায়োটিক ডেভলপে আরো গবেষণা বৃদ্ধি করা।

❌ কৃষিখাতে প্রাণী ও উদ্ভিদে এন্টিবায়োটিক ও বৃদ্ধিকরণ মেডিসিন প্রদান না করা।
.
🔵 Medicare Apps (Coming) এর ভূমিকাঃ

সঠিক মাত্রায় সঠিক ডোজে নির্ধারিত সময় ধরে এন্টিবায়োটিক খাবার জন্য সচেতন করার পাশাপাশি বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক খাবার নিয়ম জানিয়ে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের বিরুদ্ধে কাজ করবে Medicare মোবাইল এপস। 
.
⚠️ প্রভাবঃ 
আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির অনন্য অবদান হলো শারীরিক অঙ্গসংযোজন প্রযুক্তি। 
.
এই এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের কারণে শারীরিক অঙ্গপ্রতিস্থাপন প্রযুক্তিও খুব শীঘ্রই হয়ত আর ঠিকমত কাজ করবেনা বরং উলটা ইনফেকশন হয়ে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। 
.
🔵 বিশ্বে বেসরকারিভাবে WHO (world health Organization) সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতা বাড়াতে ও তা চিরতরে নির্মূল করতে।

এজন্য WHO ৫ টি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে-

✅ জনগণকে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স সম্পর্কে সচেতন করা। 
✅ এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের বিরুদ্ধে গবেষনা বাড়ানো।

✅এন্টিবায়োটিক গ্রহণ সর্বনিম্নকরণ।

✅ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।

✅ এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের ক্ষতি প্রতিরোধে গবেষণা ও কাজে পর্যাপ্ত অর্থলগ্নিকরণ। 

. ( Bangla News )

🔵 এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স সপ্তাহঃ

২০১৫ সাল হতে বিশ্বব্যাপী এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে।

এই সপ্তাহের মূল থিম, “Antibiotics: Handel With Care”

একটা উদাহারন :  মাত্র তিন মাসের বাচ্চা । সামান্য জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলো ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে

যখন কোন অ্যান্টিবাটিক তার শরিরে কাজ করছিলো না তখন রক্ত পরিক্ষা করে জানা গেলো শরিরে সবগুলো অ্যান্টিবায়টিক রেসিস্টেনস হয়ে গেছে । অর্থাৎ তার শরিরে আর কোন অ্যান্টিবায়টিক আর কাজ করবে না ।

কি দিয়ে টিট্টমিন্ট দিবে ? সামনেই মৃত্যুর মিছিল আসছে ।

 

অ্যান্টিবায়টিক এর বিরুদ্ধে সচেতন হবার সময় প্রায় ফুরিয়ে এলো । আমাদের অনেক খেয়াল রাখতে হবে । নিজে নিজে আর মনের মত বা ইচ্ছা মত অ্যান্টিবায়টিক গ্রহন করা যাবে না। চাইলাম আর ঔষুধ খেয়ে নিলাম এমন টা হওয়া যাবে না । আমাদের সতেচন হতেই হবে । নিজে ভালো থাকতে হবে অন্যদের ভালো রাখতে হবে । আমাদের ব্যাবৃত সোস্যাল অ্যাকউন্ট এ শেয়ার করে এই ভয়াবহতা সবাইকে জানাতে হবে । অফলাইনে অথবা অনলাইনে এই ভিডিওর লিংক শেয়ার করে সবার কাছে পৈছে দিতে হবে এই ম্যাসেজ “ ব্যাকটেরিয়া রেসিস্টেন্ট কি ’’ আসুন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের বিরুদ্ধে সচেতন হই। “এন্টিবায়োটিক গ্রহণে সচেতন হই, মানব জাতিকে রক্ষা করি।” আমার চ্যানেলটি সাবক্রাইব করে রাখুন আরো সচেতনা মূলক ভিডিও পেতে । ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন । শিখতে থাকুন শেখাতে থাকুন ।

 

Facebook Comments
0Shares

LEAVE A REPLY