‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা । আরিফ আজাদ

‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা আছে। একবার এক লোক এসে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে নিজের ব্যাপারে বলতে লাগলো। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আমি তোমাকে চিনিনা। আমি তোমাকে না চিনলে তাতে তোমার কোন ক্ষতি নেই যদিও। তুমি কি এমন কাউকে আনতে পারো যে তোমাকে চেনে?

তখন উপস্থিত লোকদের একজন হাত তুলে বললো, ‘আমি তাকে চিনি’।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই লোকের ব্যাপারে তুমি কি জানো?’
– ‘আমি তার ন্যায়পরায়ণতা এবং সদগুণ সম্পর্কে জানি’।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তুমি কি তার নিকট প্রতিবেশি হও যে তার দিন এবং রাতের কর্মকান্ড সম্পর্কে তুমি অবহিত?’

লোকটা বললো, ‘না। আমি তার প্রতিবেশি নই’।
তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তাহলে, তুমি কি তার সাথে কোন ব্যবসায়িক কিংবা অর্থনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলে যার ফলে তুমি তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অবগত?’
লোকটা বললো, ‘না। তার সাথে এরকম কোন সম্পর্কে আমি কখনো জড়াইনি’।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘কিংবা, তুমি কি তার সাথে কোন সফর করেছো যার ফলে তুমি তার সৎ চরিত্র সম্পর্কে অবহিত?’
লোকটা বললো, ‘না। তার সাথে আমি কখনোই সফর করিনি’।
এবার ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তাহলে তুমি লোকটাকে আসলে চিনোই না’।

উপরের এই ঘটনা থেকে ‘মানুষ’ চেনার তিনটা উপায় পাওয়া যায়।

১. প্রতিবেশি হলে।
২. আর্থিক লেনদেন করলে।
৩. সফর করলে।

জীবনে প্রতিবেশিদের মধ্যে খুব কম মানুষকেই প্র‍্যাকটিসিং মুসলিম হিশেবে পেয়েছি বলে এই উপায় অবলম্বন করে মানুষ চেনা হয়ে উঠেনি কখনো। আর, খুব কম মানুষের সাথেই জীবনে সফর করেছি। অবশ্য, যাদের সাথে টুকটাক করেছি, তাদের অধিকাংশকেই খুব সৎ চরিত্রবান হিশেবেই পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। তবে, যে জায়গাটিতে আমি একেবারে হতাশ হয়েছি তা হলো- আর্থিক লেনলদেনের ক্ষেত্রে৷ ক্ষুদ্র এই জীবনে যতো জায়গায় ‘আর্থিক লেনদেন’- এ জড়িয়েছি, প্রায় সবখানেই আমি প্রচুর পরিমাণে হতাশ হয়েছি বলা চলে। অনেক দ্বীন মানা লোককেও দেখেছি অর্থের কাছে পরাজিত হতে। মানুষকে সারাদিনমান আত্মিক বিশুদ্ধতার দাওয়াত দেওয়া লোকজনকেও পেয়েছি খুব সযত্নে ‘অর্থ’ ইস্যুতে হোঁচট খেতে। অবাক হয়েছি। বিস্মিত হয়েছি। হতবাক হয়েছি। বাইরে থেকে যাদের চেহারা দেখলে হৃদয় গলে যায়, যাদের কথা শুনলে অশান্ত মন নিমিষেই শান্ত হয়ে যায়, তাদেরকে যখন এইরূপে দেখি, তখন নিজের কাছে নিজেই লজ্জিত হই।

জীবনে কখনো মানুষকে ‘কড়া’ কথা শোনাতে পারিনি। মানুষ এজন্যে আমাকে দূর্বল ভাবে। আর সেই দূর্বলতাকে সুযোগ ধরে নিয়ে আচ্ছামত আছাড় দেয়। মাঝে মাঝে মন চায় কঠোর হই৷ আরেকটু বাস্তববাদী হই। হই আরেকটু স্বার্থপর। আত্মকেন্দ্রিক। পারিনা। সাথীরা বলে, ‘আপনি নরম সুরে কথা বলেন বলেই মানুষ আপনার সাথে যাচ্ছেতাই করে। আপনি কঠোর হোন৷’ কিন্তু, কঠোর হওয়া আমার আর হয়ে উঠেনা। ফলে, এখনও আমি দূর্বল। এখনও আমি নিতান্তই সরল এবং নির্বোধ। তাই, জীবনের পরতে পরতে ঠকে যাওয়াই সম্ভবত আমার নিয়তি৷

অপু ভাইয়ের সাথে একেবারে প্রথম সাক্ষাতে তিনি একটা কথা বলেছিলেন। এই কথাটা কতোটা বাস্তব, কতোটা নির্মম সত্য, তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। তিনি বলেছিলেন, ‘আরিফ, কিছু মানুষকে একদিনেই চেনা যায়। কিছু মানুষকে একমাসে চেনা যায়। কিছু মানুষকে পাঁচ মাস, এক বছর, পাঁচ বছরে… আবার, এমন কিছু মানুষ আছে যাদের সারাজীবনেও চেনা যায়না।’

আমরা সারাদিন যে দাওয়াহ দিই, সেগুলো সম্ভবত সর্বপ্রথম নিজেদের জীবনেই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করিনা। ফলে আমরা হোঁচট খাই। টাকার কাছে। অর্থের কাছে। নাম, যশ এবং খ্যাতির কাছে। কতোই না ভালো হতো নিজেদের চেহারাগুলোকে প্রতিদিন একবার করে যদি সততার আয়নায় দেখতে পারতাম।

0Shares

Check Also

আসলেও ইসলাম কতটা সামাজিক ?

আমাদের সমাজে একটা গোষ্ঠির মাঝে প্রকট একটি ধারণা বাসা বেধে আছে যে সত্যই কি ইসলাম সামাজিক ভাবে উপকৃত? এমন ধারনা তাদের মনে আসার কারনটা ‍খুব বেশি অমূলক নয়। তারা বা আমরা ইসলামকে কতটা জানতে পেরেছি।

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *