বোতাম ছেড়ার গল্প

0
4

গত ২৪-১০-২০১৮ তারিখে আমাদের পাইকরহাঠি শহীদনগর উচ্চবিদ্যালয়ে স্মার্ট বিতরন করে । নির্বাচন কমিশন কতৃক আয়জিত একটি প্রক্রিয়া । আমরা সবাই সেদিন বেশ উৎসুক ছিলাম । নতুন কার্ড নতুন ব্যাপার সাপার ।

আমি ভেবে ছিলাম সবার আগে খুব সকালে উপস্থিত থেকে সবার আগে কার্ড নিয়ে নিজের কাজ হাসিল করবো । সকাল আটটার পরে যখন ফোন খুললাম তখন আকাশ মামার ধমক । হেই বেটা কই তুমি ? কত বড় লাইন হয়েছে জানো ? শুনেই দিলাম দৈড় । গিয়ে দেখি অরে আল্লাহ কত বড় লাইন ।

গল্পের ছুতায় আকাশ ও হৃদয়েএর মাঝে দাড়িয়ে গেলাম । এক পর্যায়ে যায়গা হলো । সামনে কি অপেক্ষা করছে তা কেউ জানি না। রাকিব আসলো এভাবেই যায়গার ব্যাবস্থা হলো । অনেক গল্প অনেক প্যাচাল নির্বাচন কমিশনের কোন খবর নেই ।

সবাই দাড়িয়ে আছে প্রায় ২০০০ হাজার মানুষ । কোন প্রসাশনিক লোকে নেই । অথচ হজার দুই এর উপর মহিলা ও পুরুষ স্কুল মাঠে উপস্থিত । বাংলাদেশর নতুন চালু হওয়া ইমারজেন্সি সার্ভিস 999 ফোন দিলাম । এখানে যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য ফোন দিয়ে প্রশাসনিক সাহায্য পাওয়া যায় । অনেক উপকার হচ্ছেও । আমিও দিলাম ।

আসসালামু আলাইকুম । অলাইকুমুস সালাম । বিস্তারিত খুলে বললাম । প্রায় ২০০০ মানুষ উপস্থিত এতো গুলো মানুষের মাঝে উত্তেজনতা বসত বা তারাহুরা করে যে কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে । সে ক্ষেত্রে অগ্রিম কোন ব্যাস্থা নিতে পারলে ভালো হয় ??

উত্তরে আসলে ধস্তাধস্তি কি হচ্ছে ? কেউ কি কারো মারছে ? মাথা ফাটাফাটির কোন ঘটনা ঘটেছে ? বললাম না বললো এমন কোন ঘটনা ঘটলে ফোন দিয়েন … এটা ইমারজেন্সি সার্ভিস অগ্রিম কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয় না । এটা নির্বাচন কমিশন ও স্থাণিয় চেয়ারম্যান দেখবে । হতাশ হইনি । আমি পজেটিভ, সেদিন না পেলেও আরো হাজারও উপকার আসে ৯৯৯ থেকে ।

হঠাৎ নির্বাচন কমিশনের লোক আসলো তাদের নিজেদের মত স্কুলের রুম বাছাই করলো এবং অনেক বড় একটা ভূল এর মাঝে তারা করে বসলো , তারা বললো আমরা যে রুমে অবস্থান নেয়ছি আপনারা সেই রুম বরাবর দাড়ান ।

বিশ্রিংঙ্খলা শুরু হলো তখন থেকেই । সেই রুম বরাবর সবাই লাইন পেতে হুমরি খেয়ে পড়তে লাগলো । সবাই মিলে একে অপর কে শক্তি প্রয়গে ঠেলতে লাগলো । এমন মনে হচ্ছিলো যে সবাই মিলে পুলো বিল্ডিংটাই যেনো ধাক্কা মেরে উল্টিয়ে ফেলছে । আমি তাদের মাঝেই ঠেলা ঠেলি উপভোগ করছিলাম প্রথম দিকে ।

মাঠের অন্য পাশে মহিলারা সংখ্যায় বেশি ছিলেন । তাদের মাঝেও একি অবস্থা । এমন অবস্থা দেখে দুইজন প্রেগনেন্ট মহিলাকে কে তাদের স্বামি সেই ভির থেকে বাইরে বের করে বাড়ি চলে যাচ্ছে । অবস্থা খুবই খারাপ দিকে যেতে লাগলো ।

বেশ কিছু সময় পার হবার পরে ৩ জন পুলিশ আসলো । দুইজন ইয়াং বয়সের এসেই ধাক্কা মেরে মানুষকে বারান্দা থেকে মাঠে নামানোর চেষ্টা করছিলো । একজন এক পাশে নামায় অন্য পাশে উঠে । কেউ কথা শুনছিলো না । কেউ না । কিসের পুলিশ এটা যেনো কিছুই না । শ্রিঙ্খলা মানেতই চাচ্ছি না মানুষ ।

আমার মোধ্য খুবই খারপ অনুভতি আসতে লাগলো । দুইজন সম্ভাব্ব মা চলে গেলেন এমন ধস্তাধস্তির কারনে । মুরুব্বি মহিলা গন এর মাঝে মাঠে বসে শুয়ে পড়তে শুরু করেছে । যার শক্তি আছে সেই বারান্দায় উঠে পুরাতন কার্ডের টোকেন সংগ্রহ করছে । যে একবার বারান্দায় উঠতে পারছে সে নামতে পারছে না । এতো চাপ এতো বিশ্রিংঙ্খলা যা খুবই বর্বর লেগেছে ব্যাপার গুলো ।

মানুষ এরই মাঝে পুলিশের সাথে বাজে ব্যাবহার ভালো মতই শুরু করেছে ।

এবার এগিয়ে গেলাম । পুলিশের কাছে গেলাম বললাম স্যার শুনেন । দিলো এক ধাক্কা বারান্দা থেকে মাঠে নেমে গেলাম । ৩ জন পুলিশের ১ জন অফিসার টাইপের সে রুমের মাঝেই রইলেন মাঝে মাঝে আসছিলেন আর দুই একটা ধাক্কা দিয়ে আবার রুমে যাচ্ছিলেন । কিন্তুি এই দু্ই বেচারার অবস্থা দেখি খুবই খারাপ । .

আবার এগিয়ে গেলাম । ব্রেঞ্চ টেনে বারান্দা ফাকা করার চেষ্টা করলাম । মানুষ তাও ফেলে দেয় । একবার আমি উনাদের সাথে আবার ব্রেঞ্চ সাজাই । আবার ফেলে দেয় মানুষ । অর্থাৎ আমাদের দোষেই আমরা আমাদে সময় নষ্ট করছিলাম । যদি নিজেরা শান্ত থেকে পুলিশ কে তাদের কাজ করতে দিতাম তাহলে অবস্যই অল্প সময়ে কার্ডের টোকেন সংগ্রহ করতে পারতাম ।

এক পুলিশকে বলাম,, অন্য এক পুলিশ এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে আবার বারান্দা থেকে মাঠে নামিয়ে দিলো । দিক আবার গেলাম যে একটু মুখ পরিচিত হয়েছিলো তার কাছে । গিয়ে বললাম বস্ একটা কাজ করেন সবার হাত থেকে কার্ড নেন নিয়ে বারান্দায় উপস্থিথত চাপ টা নামেয়ে ফেলেন । সে কথা টা শুনেছিলো এবং কাজ টাও করছিলো । এতে কিছুটা চাপ কোমেছিলো ।

তারপরেও মানুষের চাপ খুবই খারাপ । কেউ একটু ও ধর্য্যে ধরছিলো না । সেকি ঠেলা ঠেলি । এর মাঝে আমাদের মেম্বার বাবু সাহেব । পশ্চিম পাড়ার এক মেম্বার পার্থি সেও নিজে রুমে প্রবেশ করে টোকেন নাম্বার যে গুলো বের হয়েছিলো সে গুলো নিয়ে বিলি করতে লাগলো । তুবুও কি চাপ কমে ? আরো বারতে লাগলো বেলা বার সাথে সাথে । এর মাঝে কে যেনে পুলিশের গায়ে হাত তুলা শেষ ।

কি একটা অবস্থা । অনেকে পুলিশের সাথে রিতিমত তর্ক জুড়িয়ে দিয়েছে । সেখানে মোধ্যস্থা করলাম দুইটা একটা । কেউ আমার উপরেই রাগ খাটায় । খাটাক ।

সবচে খারাপ অবস্থা হয়েছিলো মহিলাদের । এক পর্যায়ে আমি ভালো মতই ভলেন্টায়ারের কাজ শুরু করলাম আমাকে আর কেউ ঠেলে মাঠে ফেলছে ণা ।

যাদের কার্ড ভিতরে জমা পড়েছিলো তাদের কার্ড রিটার্ন আসছিলো টোকনে নাম্বার সহ । সে পাবে কি না ? পেলে কতনম্বরে তার ডাটা এন্ট্রি হয়ে আছে ।

অমি সেগুলো বিলানোর দায়িত্ব নিলাম । এর মোধ্য রাকিব এসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে সেও ভালোমতই ভলেন্টিয়ার এর দায়ত্ব শুরু করেছিলো ।

মহিলাদের মাঝে নিয়ম মানতে চাওয়ার ব্যাপারটা সবচে কম । কোন কথাই শুনতে চায় না । খালি গলায় চিল্লায়ে চিল্লায়ে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মহিলাম রিটার্ন কার্ড বিরতরন করেছিলাম ।

উনারা সুধু সুধু ই এতো পরিমান চিল্লাচ্ছিলো যা বর্ননার বাইরে । এতো পরিমান ঠেলা ঠেলি করছিলো যে আমি কই কাকে ডাকি কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না । ভিতির থেকে অাসা রির্টান কার্ড গুলো মাঝে মাঝে আমার হাত থেকে কেরে নিয়ে স্থানিয় প্রভাবশালি ভাইয়ারা নিজের টা বেছে নিয়ে তার পরে আমার হাতে দিচ্ছি লো । এতে সময় নষ্ট হয়েছিলো বেস।

এরি মাঝে আমার শার্টের নিচের প্রথম বোতাম নেই , ছিরে গেছে । আহা একি ঘটনা ? দেখলাম দুই পুলিশ ভাইয়ের এক জনের ও তারে নাম বুকে নেই কে বা কারা ধস্তাধস্তিতে খুলে ফেলেছে ।

বেশ কিছু সময় পরে দেখি আমার শার্টের আরো একটা বোতাম নেই । দেখলাম এক পুলিশ ভাইয়ের সোল্ডারের তারা নেই , বিচারা মাটি হাতের তারা খুজছে ।

প্রচুর শব্দ মহিলারা ব্যাপক বিশ্রঙ্খল , খুবই খারাপ অবস্থা । ১০ থেকে ১ টা পর্যন্ত চিল্লাইয়ে সবার নাম ডেকে তাদের কার্ড বিতরন করছিলাম । অনেকে আমার হাতে তাদের কার্ড দিতে চাচ্ছিলো কিন্তু আমি নিচ্ছলাম না, দিচ্ছিলাম ।

হঠাৎ করে গলার আওয়াজ ফ্যাস করে ফ্যাকাসে হয়ে গেলো । ডাকছিলাম বেগুনি বেগম গলা থেকে বের হচ্ছিলো সেগুনি বেগম ।এভাবে মর্জিনা সরঝিনা হয়ে যাচ্ছি লো । কেউ কেউ নিজের নাম জানে না । কার্ড দেখে চিনতে পারে এটা তার । আহা কি যন্ত্রনা । সাথে আরো এক ভাই ছিলো, সেও ভলেন্টিয়ার আমার থেকেও বেসি খাটছিলো ।

মাঝে কানে শুনছিলাম না । কে জানো টান মের আমার আরো একটা বোতাম ঠুস করে ছিরে ফেললো । এবার বাকি ২ বোতাম । বাজে ১:৩৫ । গলার অবস্থা খারাপ । ঘরোতর কৃষ্ণবর্নের ৩ প্যাক ওয়ালা শরির বেরিয় পড়ছিলো । নামাজ ও পড়তে হবে । চলে আসার সময় দেখলাম ভির অর্থেক কোম । ৭ থেকে ৮ টা ওরনা পরে আছে । ভাঙ্গা চুরি আছে সাথে ডজন খানেক খোপা মাটিতে গড়াগড়ি পারছে । অনুমান করতে পারেন ???????

বাড়িতে এসে গোসল করে ভাত চাইলাম বের হচ্ছিলো সাত দেও । নামাজ পড়ে আর যেতে ইচ্ছে করছিলো না । এতা পরিমান বাজে অবস্থা দেথে নিজের টাও আর নেই নাই ।

সামনে সাথিয়া নির্বাচন অফিস থেকে আনবো , আল্লাহ যদি তাওফিক দেয় ।

এই দিনে আমার চোখে ম্যান অফদা ম্যাচ সেই দুই পুলিশ । যেহেতু উত্তেজনা পূর্ণ ব্যাপার তাই সহকারি ম্যান অফা দা ম্যাচ রাকিব , আমার পাশের সেই ভাই , । আরো যারা সেই দেনি সেচ্ছায় কাজ করেছিলো হাসান , পুরান পাড়ার আল আমিন , রঞ্জু মামা , আরো কয়েক জন যাদের নাম মনে নেই ।

সেদিন ফ্লপ অফদা ডে আমার মা বোনেরা । খুবই অনিয়ম-তান্ত্রিক । ( ‍পুরুষ রা জমা দেয়ার পরে চুপচাপ থেকে রিটার্ন কার্ড. বুঝে নিয়ে টোকেন সংগ্রহ করছিলো )

আর ম্যান অফ দা সিরিজ বাংলাদেশ সরকার । ধণ্যবাদ সবাই কে ডিজিটাল এর দিকে নিয়ে যাবার জন্য । ( আমার গলা ৪ দিন ফ্যাস ফ্যাস ফ্যাস – ৫ নং দিনে ইয়া মোটা গলা আলহাম্দুল্লিাহ )

Facebook Comments
0Shares
SHARE
Previous articleBani Bangla

LEAVE A REPLY