বিসিএস শিক্ষাব্যবস্থা এবং আমরা

“শিক্ষাকে গণ্ডিমুক্ত করতে চাই” বলে যাচ্ছি কদিন। কিন্তু কীভাবে সম্ভব?
আসুন একটু গাঢ়ভাবে চিন্তা করি।

বিসিএস বাংলাদেশে বেঁচে থাকার অক্সিজেনের মত। কিন্তু সেটা কার্বন মনোক্সাইড হয়ে গেছে।

আমি নিজে পড়ছি ডাক্তারি। কদিন পর ডাক্তার হবো। বাদ দেন আমার বন্ধুরা একদিকে এফসিপিএস করছে অন্যদিকে বিসিএস এর mp3! উহু গান নয় চটিবই মুখস্ত করছে। কেউ কেউ তো ৯-১০ এর বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজি ২য় পত্র, সমাজ বই নিয়ে মেট্রিক থুক্কু বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আরো মজার বিষয় হচ্ছে, হইলাম ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি পাবার পর হবো অফিসার আর পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ইন্টারের সিলেবাসে!

আরে বাপ! একটা সাব ইন্সপেক্টর এর চর্যাপদ নিয়ে পড়ে পরীক্ষা দিয়ে চোর ধরাতে কী কাজে লাগছে?

আমি বলছি পরীক্ষার পদ্ধতিটার সংস্কার হোক। কীভাবে?

প্রশ্ন আসুক: (পুলিশে যে যাবে তার ক্ষেত্রেই ধরে নিলাম)

১. কনস্টেবল পদ কী?
২. একজন সাব ইন্সপেক্টরের কী কী ক্ষমতা?

একইভাবে বাকিসব বিভাগের।

দেখেন ডাক্তার দিয়ে রাস্তা ঠিক করাতে যাবেন না। আবার যে আর্কিটেক্ট তাকে দিয়ে হাসপাতাল চালাতে দিবেন না। বিসিএসে তাকে সেই পদে দিন যেলাইনে সে পারদর্শী এবং ডিগ্রিটা সেই পদে নিয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলার কিছুই নেই। কারণ যে বাচ্চাটা ঠিকমত “মা -বাবা” বলতে পারেনা তাকে দিয়ে “আমটি আমি খাবো পেড়ে” শেখানোর জন্য মা বাপ আর শিক্ষকেরা উঠে পড়ে লেগেছেন। না পারলে বেত্রাঘাত করেন আর “তোমার বন্ধু পারে তুমি কেন পারোনা?” এসব বলে মানসিক অত্যাচারে আত্মবিশ্বাসকে দুমড়ে দেন।
ফিরে যাই,
পদ দেবার আগে তাকে পদ চেনান। চর্যাপদ দিয়ে দেশ উন্নয়নের হাতিয়ার গড়ার কারিগর হবেনা।
আর ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হয় ইতিহাস নিয়ে পরীক্ষা নিতে নয়।

শিক্ষার উন্নয়ন না হলে কোন যোগ্য লোক আসবেনা। আর যোগ্য লোক বিসিএস ক্যাডার না হলে দেশ আগাবেনা। রাস্তার জ্যাম থেকে সচিবালয় সবই ডুবতে থাকবে।

রবীন্দ্রনাথ হতে চাওয়া ছেলেকে ইবনে সিনা বানানোর কোন দরকার নাই। ইবনে সিনা যে হতে চায় তাকে “রবীন্দ্রনাথ হও” বলাটাও অপরাধ।

বিসিএস মানে সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। মন্ত্রীর পদে যারা আছে তাদের কাজকে সহজ করে দিয়ে তাদের মত যোগ্যতার কাজের লোক নিয়োগ করা।

তারাই দেশ চালাচ্ছে। এরা হচ্ছে নিরপেক্ষ সমাজ। যারা সরকারের অধীনে। বেশি কিছু বলব না। আমি পাশ করে ক্লাস টেনের পড়া আবার পড়তে চাইনা। তাও আবার বাংলাতে। তাহলে কেন ইংরেজি বই গুলিয়ে খাইয়ে উগড়ে দিয়ে এর কঠিন কঠিন ডিগ্রি অর্জন? যদি সেই স্কুলেই ফিরে যেতে হয়? তাহলে এক কাজ করেন বিসিএস এত ডিগ্রিটাও স্কুলের বাচ্চাদের জন্য করে দিন এবং আমি তো তাহলে বিসিএস পাশ করেছি। কারণ সমাজ, গণিত, ইতিহাস, বাংলা, ইংরেজি সব তো ৮০ এর ঘরে মার্ক ছিলো। আর ইন্টার পাশ করা পোলাপান নিজেদের বিসিএস সমমনাজ্ঞান দাবি করলেও অবাক হবোনা।

রাগ হচ্ছে? আমার তো মাথাই ঘুরাচ্ছে। এ কেমন বিসিএস!

বিসিএস পরীক্ষাব্যবস্থার উন্নতকরণ দরকার।
আমি নিশ্চিত বলব, কয়জন এবারে নিয়োগ পাওয়া ক্যাডার জানে সে যে পদে আছে, কী তার ক্ষমতা? তার গণ্ডি কতটা?

কী ট্রেনিং দেওয়ার কথা বলবেন তো?
চাল ফুটানোর পর পানি দেন; নাকি চাল ফোটানোর জন্য পানি দেন?

লেখকঃ Xihaan Xenon Xihaan

58Shares

Check Also

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

আমাদের নিখুঁত পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়! | Bangla1news.com

‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা । আরিফ আজাদ

‘মানুষ’ চেনার ব্যাপারে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেশ চমৎকার একটা ঘটনা আছে। একবার এক লোক এসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *