বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আমাদের আদি অন্ত

হেফাজত বলেছিলো – ‘ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা’ চলবেনা। অবাধ মেলামেশার বিপক্ষে তারা। পরিচিত একজন এই নিয়ে তুমুল সমালোচনা করছেন হেফাজতের। আমি মিটিমিটি হাসছি। উনি হুট করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন – ছেলেমেয়ে একসাথে পড়তে পারবেনা, চাকরী করতে পারবেনা, এইটা কি অন্ধকার যুগ বানাইতে চায় হেফাজত!

উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন – বলেন আপনি কি এইটাকে সমর্থন করেন? না কোন সুস্থ্য বোধসম্পন্ন মানুষের করা উচিত?

আমি হেসে জবাব দিলাম – একসাথে চাকরী ও ক্লাশ বা পড়ালেখা করাটা কি অবাধ মেলামেশা? 
উনি বল্লেন – তাইতো এছাড়া কি? এর বিরুদ্ধেই তো হেফাজত।

ভদ্রলোক বিবাহিত, তাই পরের কোশ্চেন করলাম – আপনার স্ত্রী কি অবাধ মেলামেশায় অভ্যস্ত?

ভদ্রলোক তোতলাতে লাগলেন। আমি বললাম – চলেন চা খাই, এইসব বাদ দেন।

আমার সন্তান সেদিন আমার সামনে খেলতে খেলতে গুনগুন করছে। হুট করে মনে হলো আমার কাছে অভদ্র শব্দ বলে বিবেচিত একটা ইংরেজী ওয়ার্ড ছেলেটা বললো। আমি নিশ্চিত হতে জিজ্ঞেস করলাম কি বললে বাবা?

ও স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিলো -“সেক্সি”। উচ্চারণে জড়তা নেই, নেই কোন অস্বস্তি।

মূহুর্তে আমার চেহারা কঠিন হয়ে গেলো আমি কড়া গলায় বল্লাম – এটা একটা নোংরা শব্দ, কক্ষনো বলবেনা। ও খুব নিরীহ গলায় জানতে চাইলো – যদি নোংরা হয় তবে ডিস্কভারী চ্যানেলে বলে, আমার বন্ধুরাও কেনো বলে বাবা।

আমি জবাব দিলাম – নোংরা শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্তরা বুঝতে পারেনা এটা নোংরা। তুমি বলোনা ব্যাস।

এ শব্দটার মানে কি বাবা?

আমি বল্লাম- নোংরা শব্দের মানে না জানলে কি তোমার কোন ক্ষতি হবে? 
না, বাবা।

তাহলে জেনে রাখো একটা নোংরা শব্দ এটা, যার মানেটা বাবা তোমাকে বলতে লজ্জা পাচ্ছি, ঠিক আছে আব্বু”

হু বাবা, ঠিক আছে।

আমি জানি ভ্যালেন্টাইন দিবসে নোংরামো করাটা মানুষ মেনে নেবে, বুঝতেই পারবেনা নোংরামো করা হচ্ছে। আমি আলবত জানি – যত যাই বলিনা কেনো এ হবেই। যত মধুরভাবে এটা উপস্থাপন করা হোক না কেনো এতে নোংরামো আসবেই, ইভেন চলেও এসেছে। এই ভয়াবহ পাপাচার নিয়ে এসেছে শফিক রেহমান।

” ভ্যালেন্টাইন বাবা- মাও হতে পারে” – এটা খুব বোকা বোকা একটা প্রচারণা, যার আড়ালে লুকিয়ে আছে তারুণ্যকে উচ্ছনে নিয়ে যাবার প্রলোভন। যে তরুন তরুনীরা আজ ভ্যালেন্টাইন দিবসে বাবা-মা কে উইশ করবে তারা এখানেই থেমে থাকবেনা। বাড়তি মুনাফা লাভের অন্যতম উপায় বাড়তি বাজার ক্রিয়েট করা, এটা ব্যবসায়ীগন আলবত জানে। তারা ভ্যালেন্টাইনের তালিকায় নিজেদের পোষা পশুপাখিকেও নিয়ে আসবে। নষ্ট হয় হোক, উচ্ছন্নে যায় যাক তারুণ্য, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেই।

আপনি যখন শ্রুতিমধুর বলে “অশ্লীল দৃশ্যায়নের” একটা গান না দেখে কেবল শোনাকে মেনে নেবেন, গুনগুন করে গাইবেন তার মানে আপনি সেই অশ্লীল দৃশ্যায়নটাকেও কিছুটা মেনে নিয়েছেন। ফাঁকিটা এখানেই।

লেখাঃ Rahat Saiful Ashraf 

0Shares

Check Also

বি এন পি এমপি হারুন সাহেব এর 20 মিনিটের সংসদ কাপানো বক্তব্য – Bangla1News

আমাদের বাহাদুরি – আতিকুর রহমান অমি রাজ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *