তাবলিগ তুমি কার ? অমুসলিম দের নাকি আমার ?

এবার আতিকুর সাহেব তাবলিগ এর আমির হয়ে রাঙ্গামাটি এলাকায় একটি দল হয়ে ইসলাম প্রচারের কাজে গেলো । আতিক সাহেব অনেক খুস, এই দলের আমির বলে কথা । যথা সময় পৌছে গেলো রাঙ্গামাটির একটি উপজেলায় কেন্দ্রিয় বাজারে ।

সকাল সকাল আমির সাহেব অনেক খোস মেজাজে আছে । উদ্দেশ্য এবার অমুসলিম দের ইসলামি বুঝ, বোঝানোর জন্য । ইসলাম কি ? ইসলাম কেনো দরকার ? ইসলাম কেনো মানবো ? এটা মানলে কি কি উপকার ? অারো হাজার প্রস্তুতি নিয়ে আতিক সাহেব ও তার দল হাজির সেই বাজারে । রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি লোকজন অর্থাৎ অনেক অমুসলিম আছে ।সকাল বেলার খাবার এর মেনুটা বেশ কড়া ছিলো ।

আতিক সাহেব এর মুখের রুচি বেশি থাকায় – তার পাকস্থলিতে জায়গাটাও বেশ বড়ই হয়েছে । সকালের ভূনা খিচুরির সাথে দেশি মুরগির গোস্ত – সুন্নতি পরিবেশ, খেয়ে দেয়ে অস্থির ।খাবার পরে দুধের পায়েশ, আয়েশ করে খেয়ে দেয়ালে হেলান দিতেই আতিক সাহেব আবিষ্কার করলেন টক করে শব্দ করে তার পায়জামার রশি ছিরে গেলো । এবং পেটের উপর থেকে চাপ কোমে গেলো ।কি আর করার লুঙ্গি পরে নিয়ে পায়জামা হাতে নিয়ে বাজারের দিকে চলে গেলো, আর নিয়ত করলো পথে যাকে পাই তাকেই ইসলাম ধর্মের শান্তির কথা শুনাবে । হাটতে হাটতে আতিক দাওয়াতি কাজ করতে লাগলো ।

এর মোধ্যে একজন বললো আমাদের দাওয়াত না দিয়ে মুসলিম দের কেই ধর্ম বোঝাও । এমন কথা আগেও শুনেছে আতিক সাহেব তাই খুব বেশি কিছু মনে করলো না ।আতিক সাহেব একটু বেছে নিয়ে একটা দোকানে প্রবেশ করলো। আতিক সাহেবের কি চাহিদা সে সেটা বুঝলো । মুসলিম দোকানদার, তাকে অনেক কিছু শোনালো – সে অনেক আফসো করলো গোনাহ নিয়ে । কথা হলো এখুনি কাজটা করে দেবে ৫ টাকাতেই হয়ে যাবে ।হঠাৎ করে পাহাড়ি দুই কন্যা এলো ।

জামা বানাবে বলে, সঙ্গে তাদের দাদি । দোকান দার খুব বিধি ব্যাস্ত হয়ে পড়লো, আতিক সাহেব কে বলছে ‘ মুরুব্বি এখন আপনি আসতে পারেন এখন পায়জামা ঠিক করলে ৩০ টাকা দিতে হবে । আর ত্রিশ মিনিট পরেন আসেন ৫ টাকাতেই করে দেবো । আতিক সাবেহ কিছূ বুঝে উঠার আগে আবার বলছে এবার আপনি উঠেন ।আতিক সাহেব বেরিয়ে পড়লো অন্য দোকান খুজতে ।

কিছূ সময় পরে ফিরে আসতে দেখতে পেলো এক মহিলার ঝগড়ার আওয়াজ । লক্ষ করে দেখলো সেই মহিলা মনে দাদি, ঐ দোকান দ্বারের সাথে তর্ক করছে । আমরা পাহাড়ি বলে আমাদের সাথে এমন করবি ? কচি মাইয়া দেখলেই গা হাতাইতে ইচ্ছে হয় ? হারামজাদা তুই না মুসলমানের সন্তান ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়িস, এই তোর চরিত্র ? আতিক সাহেব আগেই বুঝতে পেরেছিলো তাকে এভাবে বের করে দেয়ার কারন ।

আসরের নামাজ শেষে এলান দিলেন একজন “মসজিদে জামাত এসেছে মসজিদে বয়ান হবে জামাত গাস্তে বের হবে আমরা সবাই বসি । বসলে অনেক ফায়দা হবে ইনশাহ আল্লাহ। মসজিদে বয়ান চলছে আমিরের নেত্রিত্বে কয়েকজন দাওয়াতি কাজে বের হলো । একজন স্থানিয় রাহবার পাওয়া গেলো না । গাস্তের উদ্দেশ্য বাজার । প্রথমে এক পাহাড়িরর দর্জির ঘরে গেলো শান্তির বানি শোনাতে, সেই দোকান দার আতিক সাহেব কে সকালে দেখেছে ঐ দোকানটাতে সে গিয়েছিলো ।

তাই আতিক সাহেব কে শুনিয়েই বলছে “ আমাক কিছু বলতে হবেক লাই ” ঐ দোকান দার কাছে গিয়ে ইসলাম বুঝাও ধরম বোঝাও । আতিক সাহেব ব্যাপার টা বুঝতে পেরে আর কথা বাড়ালো না ।চিন্তা ভাবনা করে বাজারের অনেক গভিরে গেলো, বাজার অনেক ব্যাস্ত । অনেক প্রকারের সবজি, মাছ, মাংস, অনেক রকমের কাঁচা বাজার দেখে মনে মনে সে আলহাম্দুল্লিল্লাহ পড়ছে ।

জিকির তো মনে মনে করছিলো। বেছে বেছে এক পাহাড়ি কসাই এর কাছে গেলো । খুব অনুনয় বিননয় করে তাদের কথা শুনার জন্য অনুরধ করলো ।এমন তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি অনুনয় বিননয় এর সামনে কসাই সাহেব আগেও পড়েছে । কোন কিছু বলার আগেই সদ্য বিক্রয় করা এক পুটলা গোস্ত কাস্টমারের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে বলছে যে আমি এই মাংস উনার কাছে বিক্রয় করেছি । এই উনাকে দিয়েই ঐ কোনে এক মুসলিম কসাই আছে তার থেকেও মাংস কেনান ।

তার পরে কথা শুনবো । আতিক সাহেব এবার তাই করালেন । এবার কসাই বললো আপনারা কেউ নিজের হাতে ওজন করেন । ওজন করে যা দেখা গেলো, মুসলিম কসাই অনেক কোম দিয়েছে। তা দেখে কসাই আতিক সাহবে কে উদ্দেশ্য করে বলছে “ কি হুজুর …… তাওয়াতে তাবলিগ কারে হুনাইবেন ? আম্রে ? নাকি হেতেরে ?’’আতিক সাহেব জামাত নিয় ফিরে যাবার নির্দেশ দিলেন ।

মসজিদে ফিরে অনেক চিন্তা করলেন মুসলিম সমাজে মুসলিমরা কেনো এমন করবে ? মুসলমানের প্রতিদিনের কর্ম কান্ডই হবে ইসলামি দাওয়াতের কাজ । সৎ, ন্যায়পরায়ন, অহংকার মুক্ত. পর উপকারি হবে মুসলিমরা, এটাই হবে দাওয়াতি কাজের উদাহারন, অথচ আজ দুজন মুসলিমকে দেখিয়ে যে উদাহারন অমুসলিমরা দিলো তাতে করে দাওয়াতি কর্মকান্ড মুসলমারে ভিতরে বেশি করা উচিত ।

আতিক সাহেব নতুন চিন্তা করে ঘুমিয়ে পড়লেন । তাহাজ্জুত পড়ে এই দোয়াই করলেন “ হে আল্লাহ্ মুসলমানদের হেদায়েত দাও”।

12Shares

Check Also

জবির সিএসইর পুননিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানের সাথে সফটরিদম কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

হাফিজুর রহমান:( সফ্টরিদম আইটি থেকে ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পুননিযুক্ত বিভাগীয় …

আসলেও ইসলাম কতটা সামাজিক ?

আমাদের সমাজে একটা গোষ্ঠির মাঝে প্রকট একটি ধারণা বাসা বেধে আছে যে সত্যই কি ইসলাম সামাজিক ভাবে উপকৃত? এমন ধারনা তাদের মনে আসার কারনটা ‍খুব বেশি অমূলক নয়। তারা বা আমরা ইসলামকে কতটা জানতে পেরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *