একটা প্রশ্ন ছিলো মনে, জান্নাত ও জাহান্নাম যদি ভাগ্যে আগেই লেখাই থাকে তাহলে আমল করে লাভ কি? ভাগ্য জাহান্নাম লেখা থাকে তাহলে আমল করে কাজ হবে না।


আজ ঈদের দিন উপলক্ষ্যে প্রাণ প্রিয় ভাই মাওলানা মুহাম্মাদউল্লাহ্ কে পেয়ে এই প্রশ্ন সহ আরো অনেক প্রশ্ন করলাম। উনাকেই প্রশ্ন গুলো করার কারন, যে কয়জন আমাকে সবচেয়ে ভালো বুঝেন, উনি তাদের মধ্যে প্রথম কাতারের লোক।


চমৎকার উত্তরে ভাই যা জানালেন তার অর্থ্য এমন জান্নাত ও জাহান্নাম দুইটাই আপনার ভাগ্যে লেখা হয়ে গেছে । এখন কর্ম করে অর্জন করে নিতে হবে। সঠিক ঈমানি চেতনা ঠিক রেখে মানব কল্যাণে ও আমল ইবাদতে সময় অর্থ ও কাজ করে যেতে পারলে তবেই মিলবে জান্নাত।


আরো প্রশ্ন ছিলো, যা কিছু করি সবাই আল্লাহর হুকুমে হয় । তাহলে যা কিছু খারাপ করি সেগুলোও কি আল্লাহর হুকুমে হয় ?


ভাই বললেন , এমন প্রশ্নের সমূখীন আলী রাঃ কে হতে হয়েছিলো । আমি অবাক হলাম । বিষয়টা আমি জানতাম না, একই প্রশ্ন আলী রাঃ কেও করা হয়েছিলো। তার উত্তরটাই দিলেন ভাই।

তাকে বললেন তুমি একপা উঠাও । সেই লোক এক পা উঠালো । এর পরে বললেন তুমি এবার দ্বিতীয় পা টাও উঠাও । সে লোক বললো এটা কি করে সম্ভব , আমিতো তা পারবো না।

আলি রাঃ তখন বললেন তুমি একটা পা উঠিয়েছো এটা তোমার ইচ্ছা ও আল্লাহর দেয়া স্বাথিনতা । যে টুকর উপর আল্লাহ এখন হস্তক্ষেপ করবে না। তুমি দ্বিতীয় পা উঠাতে পারছো না এটা আল্লাহ ইচ্ছা ও তার হাতে যেটা তুমি চাইলেও পারবেনা।


তাই যেটা নিষেধ সেটা করা পাপ। সেটা করা না করা এক পা উঠানোর মত ব্যাপার। এটা তোমার স্বাথীনতা আছে, এটা বাধা দেয়া হবে না।


প্রশ্ন করলাম কিছু মানুষ আত্বঘাতি হামলা চালিয়ে মানুষকে খুন করছে বা না বুঝে জান্নাত পাবার আশায় বড় অপরাধ করে চলছে। তো তারা তো ভুল ব্যাখ্যা শুনে একটা বড় বিশ্বাস এনে নিজেদের জীবন দিচ্ছে। তো তাদের বিশ্বাসের মূল্য পাবে কি না ?


আমার ধারনা ছিলো কমপক্ষে তারা, তাদের বিশ্বাসের মূল্য পাবে । ভাই যেটা বললো । অন্ধ বিশ্বাস কখনোই কাম্য নয়। ইসলামে সর্ব প্রথম জ্ঞান (ইলম) অর্জন করা ফরজ করা হয়েছে।


আপনার নামাজ পড়তে, আপনার নিজের আমল ইবাদত করতে ইসলামি কর্ম কান্ড পরিচালনা করতে ও ইসলামি জিবন জাপন করতে যে জ্ঞান দরকার সেটা অর্জন করা সবার আগে ফরজ (অবস্যই জরুরি),


এর পরের কথা হলো যখন প্রয়জনীয় ফরজ জ্ঞান(অবস্যই জরুরি) গুলো আপনি শিক্ষা নিলেন । তার পরে না হয় জটিল বিষয় গুলো আলেমদের উপর ছেলে দিলেন । অনেক জটিল মাশালা ও সুক্ষ পরামর্শ গুলো আলেমদের হাতেই ছেরে দিলেন।


এর পরে আপনাকে কেউ একজন বললো পশ্চিমে সেজদা করার পাশাপাশি মাঝে মাঝে পীর কেউ সেজদা করা উচিত বিষয়টা সাময়িক ভাবে সঠিক নাকি ভুল আপনি বুঝতে পারবেন যদি প্রয়জনীয় নূন্যতম ফরজ (অবস্যই জরুরি) জ্ঞান অর্জন করে থাকেন।


বা কেউ একজন বললো বাপ দাদা এই কাজ করে এসেছে তোমাকেউ করা উচিত, সেটা ভুল নাকি সঠিক তা আপনি ধরতে পারবেন যদি প্রয়জনীয় নূন্যতম ফরজ (অবস্যই জরুরি) জ্ঞান অর্জন করে থাকেন।


আপনাকে জান্নাতের চমৎকার বর্ণনা গুলো শুনিয়ে আপনাকে জান্নাতে যাবার টিকিট হিসাবে আত্বঘাতি হামলায় মরতে বললো আপনি টপ করে গিয়ে ফেললেন ? এটা নিতান্ত্য বোকামি । এভাবে ভুল কাজ করলে জান্নাত পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে ।


আমি বললাম সেতো বিশ্বাস করেছিলো আল্লাহর উপর । উত্তর আসলো আল্লাহ কি কোথাও বলেছেন আমার উপর বিশ্বাস রেখে ভুল ভাল যাই করো আমি মেনে নিয়ে তোমাকে জান্নাত দিবো ? এমনটা কোথায় লেখা নাই ।


তাই বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে জ্ঞান অজর্ন করতেই হবে। আমরা ২০ টাকা কেজি বেগুন কিনতে গিয়ে আগা গোরা বেছে নেই। অথচ ইসলামের মত দামি সম্পদ অর্জন করতে একটুও বেছে নিয়ে কাজ করবো না?


সত্যই যারা জ্ঞান অর্জন করেছে আর যারা জ্ঞান অর্জনে করে নাই তারা কখনোই সমান হতে পারে না।


শিক্ষতে পারলাম অনেক কিছু । ভাইকে অনেক ধন্যবাদ । তারিখঃ 5.6.2019 (ঈদ মোবারক)

0Shares