কোটা সংস্কার চাই – রাহাত সাইফুল আশরাফ

0
5

কোটা সংস্কার চাই – এই ধরনের একটি পেজে আমাকে এড করা হলো। আমি স্বভাবতই দেখতে চাইলাম এই আন্দোলনের শক্তিমত্তা কিংবা আন্দোলনের কার্যকারীতা কতোটুকু হতে পারে। কোটা সম্পর্কিত আমার আগের একটি লেখা পোস্ট দিলাম দেখতে চাইলাম পোস্টটা অনুমোদন হয় নাকি। দেখলাম হয়নি, বুঝলাম এই আন্দোলন সমঝোতার আন্দোলন হবে, অধিকার আদায়ের আন্দোলন হতে অনেক দেরী, হয়তো হয়ে উঠবে এই আশাবাদ রইলো।
আগ্রহীগন কোটা রিলেটেড আমার লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন।

” দোকানে চা খেতে বসলাম। দেখলাম দোকানি আশেপাশে মাটিতে চিনি ছিটিয়ে দিচ্ছে। কেনো?
কারন পিপড়া চিনি খেতে আসবে,জড়ো হবে তাদের প্রিয়তম খাদ্যের আশেপাশে। পিপড়াদের মনে থাকবে তুমুল হর্ষ। আহা! সুস্বাদু সে চিনি!
দোকানী ঠিক সেই মোক্ষম সময়টাতে গরম পানি ঢেলে দেবেন পিপড়াদের গায়ে। সাফা। এক্কেবারে সাফা। একটা একটা করে খুজে মারার ঝামেলা নেই।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন রকম সুবিধাদি দিয়ে এসেছেন। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু উনাদের নাতিপুতিদের বেলায় এসে ঠেকেছে এই সুবিধাদি। সুবিধা কে না চায়? প্রশ্ন হচ্ছে উনারা কি ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এই প্রাণ অকাতরে বিলিয়েছেন? 
না, কখনোই নয়। উনারা চেয়েছেন সামগ্রিক উন্নতি। সেই উন্নতি চাহিদার প্রতি আমাদের কর্তব্যটুকু কোথায় পালন করেছি?

একটা স্বাধীন দেশ এনে দিয়ে দেশ গড়ার যে দায়বদ্ধতা উনারা দেশের সরকারকে দিয়েছেন সে দায়বদ্ধতা সরকার কিভাবে চুকিয়েছেন?

দেশমাতৃকার টানে যে সকল মহতপ্রাণেরা জীবন তুচ্ছ করে ছুটে গিয়েছেন উনাদের প্রতি আমার ও আমাদের দেশের মানুষের শ্রদ্ধার শেষ নেই।

মানুষ মাত্রই দায়বদ্ধতা নিয়ে জন্মায়। সেই দায়বদ্ধতার হিসেব চুকাতে হয়, কখনো কখনো আজীবন। সেই দায়বদ্ধতা নিয়ে আজকের লেখা

মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন দেশের প্রাণপুরুষ। উনারা যে কোন অন্যায়ের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ করার সামর্থ্য দেখিয়েছেন। দেশ যখন স্বাধীন হলো তখন উনারা যেভাবে দেশটাকে দেখতে চেয়েছেন আমাদের সরকারেরা সেভাবে দেশকে চালাতে পারছেননা। সরকার প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। কারা করছেন? সেইসব দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা।

তখন খুব চতুরতার সাথে একটা প্লান করা হলো। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেবার নাম করে উনাদের বাড়তি একটা সুবিধা দেবার প্লান করা হলো। সেটার নাম কোটা পদ্ধতি- মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা। উনাদের মধ্যে তখন দুটো ভাগ হলো। একভাগ এই সুবিধা নেবার পক্ষে কারন এটার নাম দেয়া হয়েছে ‘সম্মান’। অন্যপক্ষ নিতে চাননি কারন এটা নিলেই একটা স্পেসিফিক সরকারের প্রতি সহানুভূতি চলে আসতে পারে। যা থেকে উনারা সরকারকৃত অন্যায়ের সমালোচনা করতে স্পৃহাটুকু বা গতিটুকু হারিয়ে ফেলবেন।

তাই হলো। এখন মুক্তিযোদ্ধাগন সবাই এককাতারে নেই। উনাদের সেই জোরটুকু ভেংগে দেয়া হলো। ভেংগে দিলো প্রতিটি সরকার যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সামগ্রিক চাহিদাকে (দেশের উন্নতি) ভয় পেতো। সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার যাদের ছিলো সেই অধিকার চতুরতার সাথে কেড়ে নেয়া হলো।

সরকার এখন বহু মুক্তিযোদ্ধাকে পকেটে নিয়ে ঘুরে। অনেক মুক্তিযোদ্ধাগন সরকারের ন্যায় অন্যায় সবকিছুর পক্ষে সাফাই গায়, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র গল্প বলে। যে চেতনা আমার হিসেবে অবশ্যই আংশিক ও একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠির অন্যায়ের পক্ষে ঢাল হয়ে কাজ করে।

আমার সেই দোকানীর চিনি ছিটানোর কথা মনে হলো।”

সংগ্রহ রাকিব আল-আমিন এর ফেসবুক পেজ থেকে ।  ছবি সংগ্রহ সবুজ সিলেট ডট কম । লেখক রাহাত সাইফুল আশরাফ

Facebook Comments
0Shares

LEAVE A REPLY