এটা করে লাভ কি একদিন তো মরেই যাবো

::মরতে তো একদিন হবেই::

মৃত্যুকে একেকটা সমাজ একেকভাবে দেখে। এই বৈচিত্র্যগুলো দেখলে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়।

আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী মুশরিকদের মাঝে মৃত্যু অনেকটা জীবিত সত্তার মতো। সে শুনতে পায়। শুনতে পায় কোথায় কেউ তার নাম বলছে। নাম শুনে সে আগ্রহ পায়। ছুটে আসে তার স্মরণকারীর কাছে। দেখে তাকে। ঘুরেফিরে দেখে। তারপর ঠিক করে কবে একে আলিঙ্গন করা যায়। আজ, নয়তো কাল। তবে শীঘ্রই। মৃত্যুর কথা তাই বলতে নেই। সেসব অলক্ষুণে। বালাই ষাট! বলে তাড়িয়ে দিতে হয় অলক্ষণ-কুলক্ষণকে। কারো নাম বলার সাথে সাথে সে চলে এলে বোঝা যায় তার লম্বা আয়ু। মৃত্যু তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। অনেক পরে আসে।

দূরবর্তী কিছু মুশরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাদের বলা হয় ডেথ কাল্ট। মৃত্যু সেখানে সেলিব্রেট করার বিষয়। মৃত সেখানে উপাস্য। এমন না যে কেউ মরলে তারা কষ্ট পায় না। পায়। তবে শোককে শক্তিতে পরিণত করে তারা দীর্ঘ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। দুর্বোধ্য গান, কান ফাটানো ঢাক আর ধরিত্রী কাঁপানো নাচের মধ্য দিয়ে লাশকে মলম লাগায়, সাজিয়ে দেয়, প্রিয় জিনিস সাথে দেয়, মমি বানায়, আরো কত কী! তাদের ঈশ্বরও আলাদা কেউ নয়। মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মারাই ঈশ্বর। বিপদে তারাই পথ দেখায়, তারা রেগে গেলে ফল-ফসল-পশু-পাখি-মানুষ বলি দিয়ে তাদের খুশি করতে হয়।

ইসলাম কেমন? ইসলাম মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে বলে। কেউ মৃত্যুর কথা বললে তাকে ‘অ্যাই চুপ চুপ’ বলে থামিয়ে দেয় না। কারণ মৃত্যু তো যথাসময়ে আসবেই! আগেও না, পরেও না। ইসলামও কি তাহলে ডেথ কাল্ট? না তো! ইসলাম তো মৃত্যুকে বলে স্বাদ বিনষ্টকারী। কবরের প্রথম চাপ নাকি ভুলিয়ে দেবে আজীবনের সকল উষ্ণ আলিঙ্গন! এমন যন্ত্রণার জিনিস, একে আবার বেশি বেশি স্মরণও করতে বলে? এ কেমন প্যারাডক্স! ধর্মটাকে আরেকটু তলিয়ে দেখি তো কেন এমন আপাত অদ্ভুত নির্দেশ দিলো!

ওহহো! মৃত্যুর পরেই পাপ-পুণ্যের বিচার। সেটাকে স্মরণ করলে তাই পুণ্য করার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। পাপ পরিহার করার ইচ্ছা জাগে। মুসলিমরা তাই মৃত্যুকে স্মরণ করে, এর কথা বেশি করে আলোচনা করে। করেই আবার হু হু করে কাঁদে। কেউ মরে গেলে প্রার্থনা করে। তবে মৃতের কাছে না, মৃতের জন্য। মুসলিমরা কেউ আত্মহত্যা করে না। পাপ পাপ! মহাপাপ! কিন্তু শহীদ হওয়া আবার মহাপুণ্য। মরতে তো একদিন হবেই, তাহলে সেটা হোক আল্লাহর রাস্তায়ই।

ভাইয়া! তুমি এদের সবার চেয়ে আলাদা। মৃত্যু নিয়ে তোমার কত ট্রল। কত হাসিঠাট্টা। স্ট্যাটাস। কমেন্ট। রিপ্লাই। কিন্তু আমরা তো জানি! আমরা জানি বন্ধু-আড্ডা শেষে যখন তুমি একা হও, যখন রাতের ডানাগুলো ছড়িয়ে যায়, তখন হঠাৎ মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে তুমি কেমন মুষড়ে পড়! অদেখা ভুবনের চিন্তায় তোমার বুকটা কেমন ধড়ফড় করতে থাকে। হঠাৎই চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায় যে মৃত্যু হাসিঠাট্টার বিষয় নয়। হঠাৎই বুঝে ফেলো যে নিজের করা ট্রল তুমি নিজেই বিশ্বাস করো না। তাহলে কেন মিছে হাসাহাসি? কেন এই “কিসসু কেয়ার করি না”র মুখোশ?

তুমি কি ভাবছো মৃত্যু নিয়ে টেনশন করলে মানুষ তোমাকে দুর্বল ভাববে? না, ভাইয়া! না! সবল লোকেরাই মৃত্যুর স্মরণে কাঁদে। হ্যাঁ, যদি মৃত্যুর ভয় তোমাকে আল্লাহর পথে ঝাঁপিয়ে পড়তে, দ্বীনের জন্য ঝুঁকি নিতে বাধা দেয়, তাহলে সেটা দুর্বলতা। তখন সেটাকে বলে ওয়াহহান। তাছাড়া নয়।

মৃত্যুর স্মরণে কাঁদো। কান্না না এলে ভান কর। তাও এত হেসো না ভাইয়া, মৃত্যু নিয়ে হেসো না। ফেসবুকে  একটা বাজে ট্রেন্ড চালু হয়েছিলো এটা করে ওটা করে এই করে সেই করে লাভ কি একদিন তো মরেই যাবো – এই লেখা থেকে শিক্ষা নিবো আমরা । 

  লেখা সংগ্রহ #HujurHoye ফেসবুক পেজ থেকে । ছবি সংগ্রহঃ https://pixabay.com থেকে 

0Shares

Check Also

জবির সিএসইর পুননিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানের সাথে সফটরিদম কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

হাফিজুর রহমান:( সফ্টরিদম আইটি থেকে ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পুননিযুক্ত বিভাগীয় …

আসলেও ইসলাম কতটা সামাজিক ?

আমাদের সমাজে একটা গোষ্ঠির মাঝে প্রকট একটি ধারণা বাসা বেধে আছে যে সত্যই কি ইসলাম সামাজিক ভাবে উপকৃত? এমন ধারনা তাদের মনে আসার কারনটা ‍খুব বেশি অমূলক নয়। তারা বা আমরা ইসলামকে কতটা জানতে পেরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *